অদম্য আরজিনা কব্জিতে কলম চেপেই দিচ্ছে পরীক্ষা

আঙুলে শক্তি নেই তবু প্রবল ইচ্ছাশক্তির বলে এবারের জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রংপুরের শারীরিক প্রতিবন্ধী আরজিনা খাতুন। বদরগঞ্জ উপজেলার ওসমানপুর মৃধাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আজিজুল হকের কন্যা আরজিনার কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা। জন্ম থেকেই তার ২ হাতের কব্জি বাঁকা। হাতে আঙুল থাকলেও তাতে নেই কোন শক্তি। তবুও থেমে যায়নি আরজিনা। এবারের জেডিসি পরীক্ষা অংশ নিয়ে দু’হাতের কব্জিতে কলম চেপে ধরে  সমানে লিখে চলেছে উত্তর। আজিজুল হক জানান, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি দেখে ৬ বছর বয়সে আরজিনাকে উপজেলার ওসমানপুর নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাকে ২ হাতের কব্জি ব্যবহার করে কলম ধরতে শেখান। এরপর আরজিনা সেভাবেই লেখায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। পিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্থানীয় লালবাড়ী দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। ওই মাদ্রাসা থেকেই আরজিনা চলতি বছর জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

 
গতকাল বুধবার দুপুরে বদরগঞ্জ পৌর শহরের ওয়ারেছিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আরজিনা ২ হাতের কব্জির সাহায্যে কলম চেপে ধরে অনবরত প্রশ্নের উত্তর লিখে যাচ্ছে। এ সময় কর্তব্যরত কক্ষ পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আরজিনার হাতের লেখা ভালো, পরীক্ষাও ভালো দিচ্ছে। পরীক্ষা শেষে আরজিনাকে তার লক্ষ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সে জানায়, আমি ভালো মানুষ হতে চাই। স্বার্থপর এই সমাজটাকে পাল্টে দিতে চাই। আমি বড় হয়ে গরীব-দুঃখী মানুষের সেবা করতে চাই। আরজিনার পিতা জানান, তার ৪ কন্যার মধ্যে আরজিনা জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু অভাবের সংসারে তার পড়াশোনার খরচ নিয়ে শঙ্কিত তার পরিবার। তবু মেয়েকে পড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
 

লালবাড়ী দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু মুছা বলেন, আরজিনা লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগী। তার উপস্থিতির হারও অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো। আমরা শিক্ষকরা সবাই তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, আরজিনার হাতে সমস্যা থাকায় পরীক্ষায় তাকে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেয়া হচ্ছে।