ইত্তেফাক ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার ও বিরোধীরা। বিরোধীদের পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভে গুরুত্ব পাচ্ছে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ইস্যু। গতকালও ভেনিজুয়েলার অধিকাংশ এলাকা অন্ধাকারাচ্ছন্ন ছিল। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিক্ষোভের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীরা। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবারই বিক্ষোভ হওয়ার কথা। এতে নেতৃত্ব দেবেন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়াই গুয়াইদো। খবর রয়টার্স ও বিবিসি’র
ভেনিজুয়েলার দু’টি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, বিদ্যুত্ না থাকায় হাসপাতালে এক শিশু এবং তরুণীর মৃত্যু ঘটেছে। এত সময় ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুত্ বিভ্রাটের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। হুয়ান গুয়াইদো সবাইকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভেনিজুয়েলাকে অন্ধকারের হাত থেকে মুক্ত করতে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখা দুর্নীতিগ্রস্ত মাদুরো প্রশাসনের পতন ঘটাতে হবে। গুয়াইদো বলেন, বছরের পর বছর বিনিয়োগের অভাব ও দুর্নীতিই ভয়াবহ এ বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণ। শনিবারের বিক্ষোভে এর জবাব দেয়ারও আহ্বান জানান স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সোশ্যালিস্ট পার্টিও বিরোধীদের বিক্ষোভের জবাব দিতে পাল্টা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মার্কিন সরকারের সাম্রাজ্যবাদকে দায়ী করছে।
শনিবারের বিক্ষোভে দুই পক্ষেরই লাখো সমর্থক রাস্তায় নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধসে পড়া অর্থনীতির ভেনিজুয়েলায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়া এখন খুবই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি দেশটির ৩০ লাখেরও বেশি নাগরিককে দেশ ছেড়ে পালাতেও উদ্বুদ্ধ করেছে। ভেনিজুয়েলার গুরি জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রে ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার দেশটির ২৩টি প্রদেশের ১৫টিই বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এ কেন্দ্র থেকেই ভেনিজুয়েলার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ হয়। বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ‘ব্ল্যাক আউটের’ কারণে ভেনিজুয়েলার হাসপাতালগুলোতে দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার কৃত্রিম যন্ত্র রেসপিরেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিত্সাধীন এক শিশু ও তরুণীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে শুক্রবার ভেনিজুয়েলার বেশিরভাগ অফিস-আদালত ও স্কুল বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি।