চলনবিলের শুঁটকি যাচ্ছে ২৫ দেশে

 
চলনবিলের শুঁটকি এখন শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবন্ধ নেই। রফতানি হচ্ছে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর ২৫টি দেশে।
 
দেশের সবচেয়ে বৃহত্ জলাভূমি মিঠে পানির মত্স্য ভাণ্ডার চলনবিল। প্রতি বছরের মতো এবারও বিলে-নদীতে মাছ ধরার উত্সব চলছে। সেই মাছ কিনে শুকানোর মৌসুম শুরু করেছে চাতাল মালিকরা। এই বিলের সুস্বাদু শুঁটকি মাছের বেশ চাহিদা দেশে-বিদেশে।
 
এক সময় যখন চলনবিলের মাছ স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় বিপুল প্রভাব ফেলত। মাছ বিক্রি করে আর্থিক সচ্ছলতা আসতো বিলাঞ্চলের মানুষের। চলনবিলের মাঝ দিয়ে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জের রেলপথও গড়ে ওঠে প্রকৃতির এই মত্স্যভাণ্ডারকে ঘিরেই। তখন চলনবিলের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে চলনবিলের মাঝ দিয়ে বাঘাবাড়ী থেকে সিংড়া পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০০২ সালে চলনবিলের বুক চিরে নির্মাণ করা হয় ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বনপাড়া-হাটিকুমরুল-যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়ক।
 
চলনবিলে রয়েছে মোট প্রায় ১ হাজার ৭৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি বিল, ৪২৮৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১৬টি নদী, ১২০ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট ২২টি খাল এবং অসংখ্য পুকুর। চলনবিলের জেলে, ব্যবসায়ী ও নারী-পুরুষ শ্রমিকরা এখন মাছ ধরা ও শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
 
দেশি মাছকে কেন্দ্র করে চলনবিলে গড়ে উঠেছে ৩শ’ অস্থায়ী শুঁটকির চাতাল। গুরুদাসপুরের সাতগাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী নান্নু মিয়া শুঁটকির চাতাল গড়েছেন তাড়াশের মহিষলুটি মাছের আড়তের পাশে। তিনি জানান, গত বছর তার চাতালে ৬৫০ থেকে ৭০০ মণ শুঁটকি উত্পাদন হয়েছিল। সৈয়দপুর, নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা এসে চাতাল থেকেই শুঁটকি কিনে নিয়ে যান।
 
চাটমোহরের খলিশাগাড়ী বিলপাড়ের চাতাল মালিক আজগর আলী জানান, এবার তার চাতালে শুঁটকির উত্পাদন বেশি হতে পারে। কারণ মাছের পরিমান বেশি। সোঁতিবাঁধ পাতা হয়েছে গত মৌসুমের চেয়ে বেশি।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি শুঁটকি মৌসুমে এসব চাতাল থেকে প্রায় ১শ’ কোটি টাকা মূল্যের ২৯০ থেকে ৩শ’ মেট্রিক টন শুঁটকি উত্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। শুঁটকির মানভেদে এ বি ও সি গ্রেডে বাছাই করা হয়। ‘এ’ গ্রেডের শুঁটকি মাছ আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, দুবাই, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ ২৫ টি দেশে রফতানি করা হয়।
 
শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, শুঁটকি ব্যবসায় জড়িত হয়ে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন ঠিকই; তবে এ ব্যবসায় ঝুঁকিও অনেক বেশি। ঠিকমতো শুঁটকির পরিচর্চা করতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে শুঁটকি পোকা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। আবহাওয়া খারাপ হলে, রোদ না থাকলে বিপদে পড়তে হয় শুঁটকি নিয়ে তাদের। তখনই মূলধন খোয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। চাটমোহরসহ চলনবিল এলাকায় শুটকি চাতালগুলো এখন সরগরম। রাত দিন পরিশ্রম করছেন নারী-পুরুষ।