রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিয়ো হোশি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন তিন আসামিকে অস্ত্রসহ বৃহস্পতিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি র্যাবের।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রংপুরের শালবন শাহীপাড়ার হানিফের ছেলে রাজিব হোসেন ওরফে মেরিল সুমন (২৫), একই এলাকার বাবলু চন্দ্র বর্মনের ছেলে কাজল চন্দ্র বর্মণ ওরফে ভরসা কাজল (২৫) ও সেন্ট্রাল রোড জুম্মাপাড়া গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে নওশাদ হোসেন ওরফে কালা রুবেল (২৭)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাজিব রংপুর ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য। ভরসা কাজল স্থানীয় যুবলীগের কর্মী। তবে রংপুর মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সিরাজুম মুনির দাবি করেছেন, ভরসা কাজলের সঙ্গে যুবলীগের কোন সম্পর্ক নেই। রংপুরের স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, একজন প্রতিমন্ত্রীর আশ্রয়ে এই তিনজন ভাড়াটে ক্যাডার হিসাবে কাজ করে। ভাড়ায় কিলিং মিশনের অংশ নেয়ারও অভিযোগ আছে এই তিনজনের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব আলম বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে প্রমাণ মেলেনি। শুক্রবার সকালে র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পে গ্রেফতারকৃতদের সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টিম বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সাতনইল উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ২ রাউন্ডসহ রাজিব হোসেন ওরফে মেরিল সুমনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে পৌর এলাকার বিদিরপুর এলাকা থেকে একটি রিভলবার ও একটি চাপাতিসহ গ্রেফতার করা হয় মেরিল সুমনের দুই সহযোগী কাজল চন্দ্র বর্মণ ওরফে ভরসা কাজল ও কালা রুবেলকে। তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার স্বীকার করেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা রংপুর থেকে পালিয়ে যায়। তারা সীমান্ত অতিক্রম করে পাশের দেশে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছিল। সংবাদ সম্মেলনে আরো দাবি করা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে রংপুরে হত্যাসহ আটটি, কালা রুবেলের বিরুদ্ধে দুইটি ও ভরসা কাজলের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। পরে দুপুরে তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
এদিকে, রংপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে র্যাবের হাতে তিনজন গ্রেফতার প্রসঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে রংপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। তবে জাপানি নাগরিক খুনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে-এমন খবর র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, রাজিব রংপুর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য। তার স্ত্রী সামিয়া গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন যে, ৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুর আসার পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যরা তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। নওশাদের বাবা আব্দুল লতিফের অভিযোগ ১০ অক্টোবর রাজশাহীতে এক আত্মীয়র বাসা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যরা তার ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। কাজলের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে ৭ অক্টোবর রংপুরের বাড়ি থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।
গত ৩ অক্টোবর সকালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারি গ্রামের খামার বাড়িতে জাপানি নাগরিক কুনিয়ো হোশি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। এ হত্যার ঘটনায় কুনিয়ো হোশির ব্যবসায়ীক অংশীদার হুমায়ন কবির হীরা ও রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য ডা. রাশেদ-উন-নবী খান বিপ্লব গ্রেফতার রয়েছেন।