ডিএসইতে মূলধন কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকা

 
পুঁজিবাজারে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা দরপতন হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বিক্রি করছেন বেশি। এতে বাজারের মূলধন অনেক কমে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকারও  বেশি। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকায়। অর্থাত্ বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
 
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে বাজারের সূচক অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে টাকা হাতে রাখার চেষ্টা করছেন। আর শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাজার মূলধনও কমে যাচ্ছে। একইসঙ্গে কমে যাচ্ছে বাজারের লেনদেন। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে বাজারে লেনদেন ছিল পাঁচশত কোটি টাকার বেশি সেখানে বর্তমানে ডিএসইর লেনদেন নেমে এসেছে আড়াইশ কোটি টাকার নিচে। গত সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডিএসইতে এক সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
 
এ দিকে, শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির পিই রেশিও (দাম আয় অনুপাত) কমে গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও ১৪ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে; যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৫ দশমিক ১৫ পয়েন্ট । সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই  রেশিও অবস্থান করছে ৬ দশমিক ৩ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ২৩ দশমিক ১ পয়েন্ট, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতের ১১ দশমিক ৪ পয়েন্ট, সাধারণ বিমা খাতের ১০ দশমিক ২ পয়েন্টে, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১৭ দশমিক ১ পয়েন্টে, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতে ১৮ দশমিক ৮ পয়েন্ট এবং বস্ত্র খাতের ১১ দশমিক ৪ পয়েন্টে। পিই রেশিও কমে যাওয়ায় এসব শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার কথা। কারণ পিই রেশিও যতদিন ১৫ এর ঘরে থাকে তত দিন বিনিয়োগ নিরাপদ থাকে। তবে বাজারের পরিস্থিতি ভালো না হলে নিম্ন পিই রেশিওতেও বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে চাইবেন না। তাই বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা।