প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্ঘলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা। একইভাবে বাড়ানো হয়েছে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের নিরাপত্তা। গতকাল শনিবার পুলিশ সদর দফতর থেকে এ নির্দেশনা দেয়া হয় বলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, দেশি বিদেশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। গতকালের দেয়া সতর্কতা বাড়তি কিছু নয়। নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়া মাত্র।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি স্থানে বোমা হামলা ও বন্দুকধারীদের গুলিতে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। এই ভয়াবহ সহিংস ঘটনার পর পুরো ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সীমান্ত।
প্যারিসে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সারা পৃথিবীতে অস্থিরতা চলছে। বাংলাদেশেও এর ছিঁটে-ফোটা আসছে। তবে আমরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। ভয়ের কোন কারণ নেই।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী একের পর এক ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের অনেককেই সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পুনরায় যাতে কেউ অঘটন ঘটাতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেসব স্থানে হামলার আশংকা করা হচ্ছে সেগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আসন্ন পৌষ মেলাসহ অন্য মেলায় হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন একাধিক গোয়েন্দা সংস্থ্যা- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব কিছু বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেন, আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সর্বাত্মক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তাদেরকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া আছে। তিনি বলেন, পুলিশের উপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, ডিএমপি, নৌ পুলিশ, বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সবার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তল্লাশি অভিযান চলছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদারকি।
গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইতালির নাগরিক হত্যার ঘটনার পর থেকে কূটনৈতিক এলাকা গুলশান বারিধারায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা বলবত্ রয়েছে। ফ্রান্স দূতাবাসের নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, আগে থেকেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তবে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন।
আরো হামলার আশঙ্কা
পুলিশ সদরদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের হামলা থেকে রক্ষা পায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। তাদের হামলার ধরনও ভিন্ন। চলতি মাসের শেষ দিকে ও ডিসেম্বর মাসে আরো কিছু ঘটনা ঘটানোর পায়তারা করছে- বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের হামলার টার্গেট হতে পুলিশ ব্যারাক, বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলাও তাদের টার্গেটে রয়েছে। এসব বিষয়গুলো মাথায় নিয়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুই বিদেশি হত্যা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা এবং পুরনো ঢাকার হোসেনি দালানে হামলায় হতাহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতা দমনে দেশের ৩২ জেলা (যেসব জেলায় ইতিপূর্বে নাশকতার ঘটনা ঘটেছিল) এবং চট্টগ্রাম রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।