জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি

বর্ণিল সমাপ্তির অপেক্ষা

শুধু পঞ্চম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ম্যাচ নয়। সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে আজ সাফল্য উজ্জ্বল একবছরের বর্ণিল সমাপ্তি টানার হাতছানিও। আজ সিরিজের শেষ টি টোয়েন্টিতে বিকেল পাঁচটায় মিরপুরে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে মাশরাফি বাহিনী। 
 
নিজেদের হতাশ করা টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যানটাকে একটু সমৃদ্ধ করার সুযোগও বলা যেতে পারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের আজকের এই ম্যাচটি। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজকের একাদশেও নতুন কোন চমক আসতে পারে।
 
অবিশ্বাস্য একবছর! ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ২০১৫ সালকে অভিহিত করা যায় এভাবেই। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। এরপর দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে রীতিমতো অজেয় হয়ে ওঠা। টানা তিন সিরিজে পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিদের হারিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
 
টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় সবসময়ই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়ে আসা বাংলাদেশ চলতি বছরে হেরেছে একটিমাত্র টেস্ট। এ বছর খেলা পাঁচ টেস্টের চারটি ড্র হয়েছে, যার মধ্যে আছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খুলনা টেস্টের বীরত্বপূর্ণ সেই ম্যাচটিও। অন্য তিনটি ম্যাচেই ছিল বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব। টি-টোয়েন্টিতেও পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট। এ বছরের আগে খেলা ৪১ ম্যাচের মাত্র ১১টিতে জয় ছিল বাংলাদেশের। পক্ষান্তরে, এবছর দেশের মাটিতে চারটি ম্যাচ খেলে দু’টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। যার সর্বশেষটি জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার। অন্যটি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। হার দু’টি এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। ওয়ানডে সাফল্যের বিবেচনায় কেবল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া বাদে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে ১৮ ম্যাচ খেলে মাত্র পাঁচটি হেরেছে টাইগাররা। নিজেদের সংক্ষিপ্ত ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বছরটি জয়ে শেষ করার সুযোগ এবার মাশরাফিদের। কারণ, বর্তমান সূচি অনুযায়ী এবছরে আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নেই সাকিব-তামিমদের।
 
IMG0
 
আজ জিতলে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মুখোমুখিতায় জয়ের পাল্লাটাও আরেকটু ভারি হবে। তাদের বিরুদ্ধে জয়ের মাধ্যমেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর তাদের মাটিতে ২০১৩ সালে দুই ম্যাচ সিরিজ বাংলাদেশ ড্র করে ১-১ এ। আজ জিতলে সেটা হবে বাংলাদেশের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। এর আগের চারটি জয়ের প্রথমটি আসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে, পরেরগুলো যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তবে এগুলোর মধ্যে একমাত্র আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানের ঐ জয় ছাড়া বাকি তিনটিই ছিল এক ম্যাচের সিরিজ।
 
সিরিজ শুরুর আগেই মাশরাফি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সামনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি টি-টোয়েন্টি সূচি থাকায় এই সিরিজকে দেখা হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ হিসেবে। আগামী বছরের শুরুতে এশিয়া কাপের পর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মাশরাফির সেই বক্তব্যের প্রমাণ মিলেছে প্রথম ম্যাচেই। মিরপুরে শুক্রবার চার উইকেটে জয় পাওয়া ম্যাচে অভিষেক হয় লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনের। ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত খেলা ইমরুল কায়েসকে বসিয়ে সুযোগ দেয়া হয় এনামুল হক বিজয়কে। যদিও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে রান আউট হবার আগে এই ডানহাতি ওপেনার করেন মাত্র এক রান। ওয়ানডে সিরিজের পর প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ব্যর্থ লিটন দাস। তবে মাশরাফি জানালেন, কাউকে বাদ দেয়ার আগে দিতে চান পর্যাপ্ত সুযোগ। সে কারণে আজও লিটন তার জায়গা ধরে রাখলে অবাক হবার কিছু নেই।
 
IMG1
 
কাল পুরোপুরি বিশ্রাম নেয়ার আগে সিরিজ শুরুর আগে মাশরাফি বলেছিলেন, ব্যাটিং অর্ডারের ক্ষেত্রে বলতে পারি, আমাদের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, এশিয়া কাপ আছে। তবে আমাদের সামনে সেই সুযোগ নেই যে আমরা ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নেব। যদি কিছু (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করতে চাই তাহলে এটাই সময়। তবে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। সেরা কম্বিনেশনটা ঠিক করতে এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে সবমিলে বলা যায় প্রস্তুতিটা এখন থেকেই শুরু করতে হবে।