কালীগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

 
ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল হয়েছে। কালীগঞ্জ শহরের ঢাকালেপাড়ার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম এই অভিযোগ দেন।
 
ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, আলিশান বাড়ি নির্মাণ ও সরকারি জমি দখল, অস্ত্রের মুখে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ করা হয় মেয়রের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া গোরস্থান ও ঈদগাহ উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও লোপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার কাজ না করে বা আংশিক করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
 
গত বছর পৌরসভার অধীনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার কাজ নামমাত্র করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
 
১৯৯৯ সালে কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়ার মফিজুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বিজু হলুদ চাষ করতেন। পরে ঘাস চাষ ও গাভী পালন শুরু করেন। ২০০২ সালে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটে আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুর রহমান মন্টুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন তিনি।
 
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালের পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে মেয়র নির্বাচিত হন বিজু। মেয়র নির্বাচিত হয়ে শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে ডক্টরস ক্লিনিক নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল তৈরি করেন। চিকিৎসকশূন্য এ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগী মারা গেছেন। মেয়র ঈশ্বররা গ্রামের বন্দা মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়ার ৫৭ বিঘা জমি তিনি অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেন।
 
এ ছাড়া শহরের ব্রিকফিল্ড এলাকায় ২৪নং দাগের ১২ একর সরকারি জমি নামমাত্র মূল্যে তিনি অধিগ্রহণ করেছেন। এসব বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।