ভারত থেকে অপহৃত ৫ শিশুকে সোমবার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের মা-বাবার কোলে। ফেনীর বিলোনিয়া মজুমদারহাট চেক পোস্ট এলাকা দিয়ে বিজিবি, পুলিশ, সমাজসেবা অধিদফতর ও ভারতের বিএসএফ'র উপস্থিতিতে অপহৃতদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় ফেনী বিজিবি-৪ এর উপ-পরিচালক মেজর কাজী ওবায়দুর রেজা, নোয়াখালী সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবদুর রহমান, কোম্পানি থানার এসআই মো. আবদুল করিম এবং ভারতের উদয়পুর জেলার সাব ডিভিশিনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) রতন কুমার দাশ, আরকেপুর থানার ওসি দিবেন্দ্র রায় সহ দুদেশের সরকারি কর্মকর্তাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ, বিজিবি ও অপহৃত শিশুরা জানায়, গত ২৪ অক্টোম্বর রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা এলাকা থেকে ৫ ভারতীয় শিশুসহ রেহানা বেগম (৪৫) নামের এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ৫ শিশুকে সোমবার দুপুরে নোয়াখালী কোম্পনীগঞ্জ (আমলী আদালত-৩) ম্যাজিস্ট্রেট ফারজাহান ভূঁইয়ার আদালত হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত ভারতীয় ওই শিশুদের বিজিবি কাছে হস্তান্তর করার জন্য পুলিশ ও সমাজ সেবা অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়। এর আগে উদ্ধার করা শিশুদের চট্টগ্রাম সরকারি শিশু পরিবার ও বেবী হোম থেকে আনা হয়।
উলেখ্য, ২৫ অক্টোম্বর ভোর হাসপাতাল সড়ক থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক করা হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বিনোদআলী মাঝি বাড়ীর বাহার উল্ল্যার স্ত্রী ও ভারতের ত্রিপুরার বাসিন্দা রেহানা বেগমকে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ভাঙারপাড়, খিলপারা এলাকার আবুল বাসারের ছেলে শামীম চৌধুরী (৮), এমাদ উল্ল্যার ছেলে শাহীন চৌধুরী (৭), একই এলাকার তক্কিন চৌধুরী (৩), নাছরিন বেগম (৩) ও ওবায়দ উল্ল্যাহ চৌধুরী (১)। শিশু শামীম চৌধুরী জানায়, রেহানা বেগম তার পিসি (ফুফু) হয়।
অপহৃত শিশু শামীম চৌধুরী ও শাহীন চৌধুরী বলেন, অপহরনকারী তাদের মহরমের অনুষ্ঠানের কথা বলে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। ফেনীতে এনে কাপড় কিনে দিয়ে গাড়ীতে করে নোয়াখালী নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশে আটক করলে তাদের রাখার জন্য চট্টগ্রাম সমাজ সেবা বেবী হোমে নিয়ে যায়।