বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে :রানি ম্যাক্সিমা

বাংলাদেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে অনেক উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রত্যেককে যুক্ত করতে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। বাংলাদেশে প্রত্যেকের জন্য ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বীমা, ঋণ ও অধিক সঞ্চয় সুবিধার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নত ও সহজতর জীবনযাত্রাও নিশ্চিত করতে হবে।

 
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক সেমিনার ও গাজীপুরে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন নেদারল্যান্ডের রানি ম্যাক্সিমা জেরিগুয়েতা সেরুতি। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কর্মসূচির উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসাবে ৩ দিনের সফরে সোমবার তিনি বাংলাদেশে আসেন।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে প্রথমে গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে একান্ত আলাপ করেন রানি ম্যাক্সিমা। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেন। গভর্নরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মো. বেলাল, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিয়োনি মারগেরেথা কুলেনারে, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ৪৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
 
সেমিনারে রানি বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং প্রশংসা করেন। তবে দেশের দরিদ্র জনগণকে আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে এ বিষয়ে এখনো অনেক কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।  ম্যাক্সিমা বলেন, বাংলাদেশের এখনো প্রচুর মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কোন ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট নেই; যার মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে সহজ ও নিরাপদে টাকা পাঠাতে পারেন।
 
গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন: অন্তর্ভুক্তিমূলক মাধ্যমে কিভাবে তৈরি পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকরা উপকৃত হচ্ছে তা দেখতে সকালে গাজীপুরের ভিয়েলাটেক্স গার্মেন্ট কারখানায় পোশাক উত্পাদন প্রক্রিয়া ও কর্মপরিবেশ পরিদর্শন করেন রানি ম্যাক্সিমা। এসময় রানি ডিজিটাল পদ্ধতিতে (বিকাশের মাধ্যমে) পারিশ্রমিক পাওয়া  নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। পরে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজাবাড়িতে যান। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সার্ভার সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং ব্র্যাকের আওতাধীন এটুআই ও বিকাশ এজেন্ট অফিস উদ্বোধন করেন। পরে টঙ্গীর দত্তপাড়ায় ঝর্ণা ফেব্রিক্স এন্ড ফ্যাশন হাউজ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক ঝর্ণা ইসলামের সাথে একান্তে কথা বলেন।  
 

এসময় রানির সঙ্গে ছিলেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ, ঢাকাস্থ জাতিসংঘের রেসিডেন্স কো-অর্ডিনেটর রবার্ট ওয়াটকিনস, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম প্রমুখ।