নওগাঁয় ভণ্ড কবিরাজের ৬ মাসের কারাদণ্ড

চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে নওগাঁর মহাদেবপুরে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে স্বপন নামের এক ভণ্ড কবিরাজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মহাদেবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম তাসকিরুজ্জামানের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই দণ্ড দেন।
 
এর আগে বুধবার দুপুরে নওগাঁর সিভিল সার্জন পুলিশের সহযোগিতায় কথিত ওই ভণ্ড কবিরাজকে তার আস্তানা (খোর্দ্দনারায়নপুর মাজার প্রাঙ্গণ) থেকে আটক করেন।
 
গত আড়াই বছর থেকে একটি পুরাতন কবরকে মাজার তৈরি করে কবিরাজির নামে অপচিকিত্সা চালিয়ে আসছিলেন স্বপন। চিকিৎসার নামে রোগীদের মারপিট ও বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
 
কয়েক দিন আগে একই উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের শুভ ইসলাম নামে এক যুবক চিকিত্সার জন্য তার কাছে আসেন। এ সময় শুভকে চিকিত্সার নামে মারপিট করা হয়। এরপর তিনি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন।
 
কবিরাজ স্বপন তার কাছে আসা রোগীদের জিন, পরী, পেত্নী, ভূত ধরেছে বলে পানি পড়া খাওয়াতেন। পাশাপাশি চিকিত্সার নামে রোগীদের মারপিট করতেন। শেষে ঔষধের নাম করে হাজার হাজার টাকাও হাতিয়ে নিতেন এই কবিরাজ।
 
তবে স্বপন কবিরাজ সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রোগীদের পিটানোর যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। তার চিকিত্সার মাধ্যমে জিন, ভূত ধরা অসংখ্য রোগী ভাল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
সিভিল সার্জন একেএম মোজাহের হোসেন জানান, খোর্দ্দনারায়নপুর গ্রামে স্বপন কবিরাজের বাড়িতে বিষয়টি তদন্তের জন্য সেখানে যাই। সেখানে চিকিত্সা নিতে আসা অনেক রোগীকে জিজ্ঞেস করে জেনেছি, চিকিত্সার নামে তিনি রোগীদের মারপিট, ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া খাওয়াতেন। এই কবিরাজ যেভাবে রোগীদের চিকিত্সা করেন এটা সম্পূর্ণ অপচিকিত্সা।