বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরের লড়াই শুরু হচ্ছে আগামীকাল রবিবার থেকে। তবে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ ক্রিস গেইলকে পেতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে আরো দুই সপ্তাহ। বরিশাল বুলসের জার্সি গায়ে চড়াতে আগামী মাসের শুরুতে আসছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটিং দানব।
সাকিব আল হাসানের রংপুর আর তামিম ইকবালের চট্টগ্রামের ম্যাচের মধ্য দিয়ে কাল শুরু হবে বিপিএলের লড়াই। একই দিনে দ্বিতীয় খেলায় ঢাকা লড়বে নবাগত কুমিল্লার বিরুদ্ধে। গেইলের দল বরিশাল সোমবার মুখোমুখি হচ্ছে রংপুরের।
অস্ত্রপচারের পর এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন গেইল। তাই তাকে বাইরে রেখেই বরিশালকে শুরু করতে হচ্ছে শিরোপা মিশন। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে তত্কালীন বরিশাল বার্নার্সের হয়ে মাঠ মাতান গেইল। খেলেছেন মাত্র ছয় ম্যাচ। রান করেছেন ৪০২! গড় ১০০.৫০! সেঞ্চুরি আছে তিনটি!
শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ইনিংসগুলোর মধ্যে প্রথম দুটিই গেইলের।
বিপিএলের গত দুই আসরের কথা বিবেচনায় এনে বলা যায়, গেইলই বোলারদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হতে যাচ্ছেন। তাছাড়া, এবার তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। ১লা ডিসেম্বরের পরে বরিশাল হাতে পাচ্ছে ছয়টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ।
গেইল ছাড়াও বরিশালে আছেন তার স্বদেশী কেভন কুপার, এভিন লুইস এবং নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন টেইলরও। তবে তাদের চেয়ে স্থানীয় খেলোয়াড়রাই হয়তো দলের মূল চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে। আইকন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ছাড়াও আছেন শাহরিয়ার নাফিস, আল আমিন হোসেন, তায়জুল ইসলামের মতো জাতীয় দলের খেলোয়াড়।
তবে দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন তরুণ সেনসেশন সাব্বির রুম্মান। দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল এই হার্ড হিটিং অলরাউন্ডার বড় আসরে মাঠ মাতানোর সুযোগ পাচ্ছেন এবার।
গেইলের মাপের কোন বিদেশি খেলোয়াড় না থাকলেও খুব একটা পিছিয়ে নেই চট্টগ্রামও। দুই ইকবাল তামিম-নাফিসের ওপেনিংয়ে শুরু হবে তাদের ইনিংস। আছেন এনামুল হক বিজয়ও। লম্বা ব্যাটিং অর্ডারে এরপর থাকছেন তিলকরত্নে দিলশান, দুই আকমল ভাই, এল্টন চিগাম্বুরা।
বিদেশি বোলারদের মধ্যে আছেন দুই শ্রীলঙ্কান চামারা কাপুগেদারা ও জিবন মেন্ডিস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার রবিন পিটারসেন। তবে দলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছেন পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা মোহাম্মদ আমিরের। এই বাঁহাতি পেসারের জন্য জাতীয় দলে সুযোগ পাবার ক্ষেত্রে বড় একটা সুযোগও হতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশের বিমান ধরার আগে দেশের মাটিতে এমনটা বলেছেন আমির নিজেও।
প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আসছে এবার নতুন মালিকানা এবং নাম নিয়ে। তবে শক্তিমত্তার খুব বেশি পার্থক্য নেই আগের চেয়ে। ব্যাটিং বোলিংয়ে দেশের এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় কিছু নাম সঙ্গী তাদের। আইকন খেলোয়াড় হিসেবে আছেন নাসির হোসেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আছেন মিডল অর্ডারে। এই টুর্নামেন্টে বড় কিছু করতে পারলে জাতীয় দলের দরজা খুলে যেতে পারে সৈকতের।
টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা আছেন বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকায়। ঢাকার মাঠে দারুণ সফল পাকিস্তানি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নাসির জামশেদ আছেন শামসুর রহমান শুভর সাথে জুটি বাঁধতে। ব্যাটিং অর্ডারে এরপরে আছেন যথাক্রমে সাঙ্গাকারা, নাসির, রায়ান টেন ডেসকেট, সৈকত।
মুস্তাফিজুর রহমান থাকছেন বোলিংয়ের নেতৃত্বে। স্পিন আক্রমণের ভার পাকিস্তানি লেগি ইয়াসির শাহর কাঁধে। আছেন আগের দুই আসরের অন্যতম সেরা বোলার মোশাররফ হোসেন রুবেল।