ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অতিরিক্ত আইজি প্রিজন

 
যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃতুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরকে সামনে রেখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন অতিরিক্ত আইজি প্রিজন কর্নেল মো. ফজলুর কবির। শনিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেন।
 
এদিকে তাদের প্রাণভিক্ষা চাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, ‘উনি (সালাউদ্দিন কাদের) মার্সি পিটিশন করবেন না। স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছি, ওনার পক্ষে আপনারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না? তারা জানিয়েছেন, তাঁরাও মার্সি চান না। একইভাবে মুজাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তারা মার্সি পিটিশন করবেন না। তবে বিশেষ একটি আইনগত বিষয়ে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন।
 
দুই পরিবারের সংবাদ সম্মেলনের এক ঘন্টার মধ্যে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দু’জন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে গিয়ে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন। বেলা তিনটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান প্রাণভিক্ষার আবেদন দুটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবের হাতে দেন।
 
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে অতি দ্রুত রাষ্ট্রপতির দফতরে প্রাণভিক্ষার আবেদন দুটি পাঠিয়ে দেয়া হবে। আইনমন্ত্রী কর্তৃক প্রাণভিক্ষার তথ্য প্রকাশের পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী আবেদনের বিষয়ে তারা অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার বাবা প্রাণ ভিক্ষার বিষয়ে তাদেরকে কোন কিছুই জানাননি। তিনি এমন লোক নন যে ফাঁসির ভয়ে বলে ফেলবেন, আমি গুনাহ করছি, মাফ করে দেন। এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, সব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পর এখন বিভ্রান্তি তৈরী করতে দুই যুদ্ধাপরাধীর পরিবার রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের কথা বলছেন।