পেসার মোহাম্মদ আমিরের কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি-২০ টুর্নামেন্টে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। হাফিজ বলেন, যে ক্রিকেটার পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে, তার সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি সম্ভব নয় বিধায় তিনি বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগাং ভাইকিংসের দেয়া লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, ওই স্কোয়াডে আমিরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি কোন ব্যক্তির বিপক্ষে নই। এটি পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তির বিষয়। আমি এমন কোনো ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলতে পারবো না যিনি পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ, অন্য কোনো দল যদি আমাকে প্রস্তাব দেয়, ভালো পারিশ্রমিক দেয় তবে আমি অবশ্যই বিপিএলে খেলতে রাজি আছি। অন্যথায় আমি ঘরোয়া ক্রিকেট কায়েদে আজম ট্রফিতে খেলাকেই বেশি গুরুত্ব দেবো।’
হাফিজ বলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। এটি যে শুধু পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিষয় তা নয়, এটি বরং সব খেলোয়াড়দের জন্যই প্রযোজ্য। আমরা সব দর্শকদের জন্যই খেলে থাকি। এই খেলা দিয়ে আমরা তাদের বিনোদন দিয়ে থাকি। কেউ যদি সেটির অপব্যবহার করার পর এই খেলায় অংশ নেয়, তাহলে আমি তার সঙ্গে খেলা এবং ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করে নিতে পারবনা।’
এদিকে একটি সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী হাফিজ আনুমানিক এক কোটি রুপির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। যদিও ওই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এমন কোনো প্রস্তাব দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে। মিসবাহ উল হক ও শহিদ আফ্রিদির মত তারকা খেলোয়াড়রা যেখানে টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়ে বিপিএলের তালিকায় স্থান করে নিয়েছিলেন সেখানে হাফিজ তার নামটি অন্তর্ভুক্ত করাননি।
তবে একজন এজেন্টের মাধ্যমে প্রস্তাবটি দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হাফিজ। যদিও তিনি ওই এজেন্টের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি বিপিএলের কাছ থেকে সরাসরি কোন প্রস্তাব পাইনি। তবে কয়েকজন এজেন্ট এই প্রস্তাব নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, যেটি আমি ফিরিয়ে দিয়েছি বিতর্কিত কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে চাইনি বলে। এর বাইরে যে কোনো দলে খেলার জন্য আমি প্রস্তুত।’
এর মাধ্যমে বিতর্কিত কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এই প্রথম জনসমক্ষে অভিব্যক্তি প্রকাশ করল পাকিস্তান দলের কোন খেলোয়াড়। এর আগে আহমেদ শেহজাদ আমিরের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলে রিপোর্ট বেরিয়েছিল। তবে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে দেখা গেছে আমিরের সঙ্গে। সেই সঙ্গে সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফকেও দেখা গেছে লাহোরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেডিতে নেটে অনুশীলন করতে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানও আগে জানিয়েছিলেন যে কিছু কিছু খেলোয়াড় লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই তিন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। তবে চলতি বছর তারা আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
এদিকে হাফিজের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন মিসবাহ। তবে তিনি মনে করেন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়া আমির এখন শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটরাদের বিপক্ষে কেমন পারফর্মেন্স করতে পারেন সেটি পরখ করার জন্য বিপিএল হচ্ছে আদর্শ মঞ্চ। মিসবাহ বলেন, ‘এটি অবশ্য তার (হাফিজ) ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে আমার মনে হয় এসব বিষয়ে বড় বিচারক হল আইসিসি ও পিসিবি। সেই সঙ্গে অবশ্যই দর্শক ও সমর্থকদের একটি বিষয় রয়েছে।’ আর আমিরের বিষয়ে বলতে পারি এটি তার জন্য একটি ভাল সুযোগ। তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে। আর এটি (বিপিএল) এমন এক টুর্র্নামেন্ট যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারবে।’ বাসস।