কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখিয়ে এবং ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে চাকরি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার মিরপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অধীন ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ফায়ারম্যান পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় মোটা অংকের ঘুষ ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় চাকুরী পেয়েছেন আনিছুর রহমান নামে কুমারখালীর এক ব্যক্তি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ অপকর্ম সাধনে মধ্যবর্তী ভুমিকা পালন করেছেন মিরপুর ফায়ার সার্ভিস অফিসের ফায়ারম্যান মামুন।
জানা যায়, ওই ফায়ারম্যান নিয়োগ পরীক্ষায় জেলার কুমারখালী উপজেলার মিরপুর গ্রামের মনজের আলীর ছেলে আনিছুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পান। নিয়োগপ্রাপ্ত আনিছ তাঁর প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা সনদে উল্লেখ করেছেন, তিনি মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত নুরুজ্জামানের নাতি (ছেলের ছেলে)।
সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুলাই ৭৪৫৫ নং স্মারকে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মুক্তিযোদ্ধা তথ্য উপাত্ত ও আত্মীয়তা সম্পর্ক যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রদান করে। যাচাইকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান নিশ্চিত হন এবং দৈনিক ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধিকে বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামানের ঔরসে কোন পুত্র সন্তান জন্ম নেয়নি। নিয়োগপ্রাপ্ত আনিছুর রহমান তার নাতি নয়। এমনকি দূর সম্পর্কেরও কোন আত্মীয় নন।
জানা গেছে, ইতিপূর্বে একই অফিসের আরেক ফায়ারম্যান রফিক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভিন্ন পদে নিয়োগের কথা বলে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের এডি নূর হাসান বলেন বলেন, অভিযুক্তদের ব্যাপরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।