পৃথিবীকে বদলাতে তরুণদের সভা


যুদ্ধ, বিশ্বাসঘাতকতা ও হানাহানির এই যুগে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে আবার পৃথিবীকে সুন্দর করে তোলার প্রয়াস হিসেবেই তরুণদের নিয়ে জাতিসংঘ ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব) নিয়মিত আয়োজন করে আসছে মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন।

তরুণরাই আগামী দিনের অভিভাবক। দেশের উন্নতি, বিশ্বের প্রগতি তাদের হাত দিয়েই হবে। তাই তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে গড়ে তোলা যেমন প্রবীণদের দায়িত্ব; তেমনি দেশ, বিশ্ব নিয়ে তরুণদের বর্তমান চিন্তা কিংবা পরিকল্পনা জেনে নেওয়াও তাদের কর্তব্য।

ইউনিস্যাব ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের তথ্য কেন্দ্র (ইউনাইটেড নেশন্স ইনফরমেশন সেন্টার-UNIC)-এর  সহযোগিতায় এবারের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশন্সের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত ২১ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইউনিস্যাবের আয়োজনে 'বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশন্স ২০১৫' কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ২১ থেকে ২৪ নভেম্বর চারদিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন’।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সম্মেলনটির শুভ উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে আসন্ন প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি শতাংশের নিচে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তাপমাত্রা বছরে চার ডিগ্রি হারে বাড়বে। যা পুরো পৃথিবীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে।'

মন্ত্রী বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে জিডিপি নয় শতাংশ হারাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর কী অবস্থা দাঁড়াবে তা নিয়ে চিন্তার বিষয় রয়েছে'। ব্লেইম গেইম মাধ্যমে না গিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সবাইকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আহ্বান করেছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক এমপি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিন্স ও জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র ঢাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। সম্মেলনের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন ইউনিস্যাব সভাপতি মোহাম্মদ মামুন মিয়া।

 

IMG0
দেশ, বিশ্ব ও মানবতা নিয়ে আজ আর আগামী দিনের কাণ্ডারীদের জ্ঞানের যে দূরত্ব তা দূর করতেই এই মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন। এই অধিবেশনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের সম্মানীত ডেলিগেট ও রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বিভিন্ন চলমান ইস্যুর ওপর আলোচনা, যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে নিজেদের মতামত জানান। প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই মডেল জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশ নেন। তাই তো মডেল সম্মেলনের পাশাপাশি এটি যেন হয়ে উঠে এক মিলনমেলা। তরুণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে চিন্তা, দক্ষতা, নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান। ফলে নিজেদেরকে তারা আরও সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন ভবিষ্যতের জন্য।

যুদ্ধ নয়; যুক্তি-তর্ক আর আলোচনার মাধ্যমেই যে সব সমস্যার সমাধান করা যায় তা সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এই মডেল সম্মেলনটিই যথেষ্ট। ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিস্যাব। জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সাহায্য করে আসছে। আর তার ফল হিসেবেই তো বিগত সময়ে চীন, আমেরিকা কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে মডেল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে দারুণ সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ।

এবারের এই মডেল সম্মেলনে ৮টি কমিটির অধীনে ষোলটি বিষয়ে আলোচনা হবে এবং এই সম্মেলন থেকে পাশ হওয়া রেজুলেশনসমূহ আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ফ্রান্সে শুরু হতে যাওয়া কোপ-২১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের জন্য বাংলাদেশের দাবিসমূহ আদায়ে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এবারের এই বিআইমুন ২০১৫ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের আটশতাধিক প্রতিনিধি ও অতিথি অংশগ্রহণ করেছেন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে মিডিয়া পার্টনার ছিল ঢাকা ট্রিবিউন, রেডিও ঢোল ও দৈনিক ইত্তেফাক।