একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করায় আনন্দ সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করান।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ বসারত আলীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক আইরীন পারভীনের সঞ্চালনায় আনন্দ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহস, কমিটমেন্ট ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের কারণে একাত্তরের খুনী ধর্ষক ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করার সম্ভব হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের চেয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যে বিচার করা হচ্ছে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই।
IMG0
দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ডাইভারসিটি প্লাজায় সমাবেশ করেছে উদীচী যুক্তরাষ্ট্র। সমাবেশে উদীচীর শিল্পীরা গণসঙ্গীত পরিবেশ করেন এবং অবিলম্বে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার অবিলম্বে শেষ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন লেখক বেলাল বেগ, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার, উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস প্রমুখ।
এর আগে শনিবার নিউইয়র্কে আনন্দ সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটি এবং নিউইয়র্ক গণজাগরণ মঞ্চ পৃথক সমাবেশ করেছে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। এসব সমাবেশ থেকে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন ও ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের নেতৃত্বে জ্যাকসন হাইটসে সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
IMG1
ওয়াশিংটনে মিষ্টি বিতরণ
এদিকে সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করায় সন্তোষ প্রকাশ করে একে অন্যকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে ওয়াশিংটন প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
IMG2
রায় ঘোষণার পরপরই স্থানীয় সময় শনিবার ওয়াশিংটন প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতৃবৃন্দ আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, সাকা ও মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করায় বাংলাদেশ দায়মুক্তির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। তারা আশা প্রকাশ করেন এই সরকারের মাধ্যমে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্তদের সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তারা।