ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না

ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। চীন ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট (বিইআই) আয়োজিত বক্তৃতা অনুষ্ঠানে চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ এ কথা জানিয়েছেন।

 
চায়না ইন্সটিটিউট অব কনটেমপোরারি  ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স (সিআইসিআইআর) এর সহযোগী রিসার্চ ফেলো ড. লি লি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বড় ইস্যু (সমস্যা) নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এখন আমরা ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। তাই এখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
 
চীনা বিশেষজ্ঞ বলেন, ১৪টি দেশের সঙ্গে চীনের সীমান্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক ইস্যু রয়েছে। আর বাংলাদেশ আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। যার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অবশ্যই চীন জাতিসংঘের চাহিদাকে গুরুত্ব দেবে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তেমন কিছু বলার নেই। তবে আইএস ও আল-কায়েদার বিস্তারের বিষয়ে সকলের সতর্ক থাকা উচিত।
 
মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে ড. লি বলেন, বাইরের দেশে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল রয়েছে চীন। বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমান) করিডোরের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা বিসিআইএমের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইআই’র প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএস’র চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমদ ও মহাপরিচালক মে. জে. একেএম আবদুর রহমান।