দ্বিতীয় দফায় ভারতে গেলেন কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরের বিলুপ্ত ১২টি ভারতীয় ছিটের ৩০টি পরিবারের আরো ১৫৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার ১৫৭ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার একজন রয়েছেন। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার সীমান্তের অস্থায়ী চেক পয়েন্ট দিয়ে দুপুর একটা থেকে দুইটা পর্যন্ত ভারতের কোচবিহার জেলা প্রশাসনের নিকট তাদের হস্তান্তর করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরের ১২টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ার ২৯টি পরিবারের ১৫৭ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার গাড়োলঝাড়ার একটি পরিবারের একজনকে ২য় দফায় ভারত সরকারের নিকট হস্তান্তর করে স্থানীয় প্রশাসন।
এসব পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ ছিটমহল থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সকাল ১০টায় পাঁচটি বাস ও ২৩টি পিকআপ ভ্যান যোগে বাগভান্ডার চেক পয়েন্টে পৌঁছান। পরে বাগভান্ডার চেক পয়েন্টে দুইদেশের ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে তাদের ট্রাভেলপাস পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে তাদের শেষ বিদায় জানান, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মাহমুদ ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মামুন ভুইয়া। ভারতের পক্ষে তাদের বরণ করেন ভারতের কুচবিহারের ১০১ বিএসএফ কমান্ডার আখতার হোসেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সদস্য সচিব অভিজিত মিত্র।
ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে অনেকে খুশি হলেও জন্মভূমি, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর মায়া ত্যাগ করে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার মুহূর্তে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সবাই।
উল্লেখ্য,কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরের বিলুপ্ত ১২টি ভারতীয় ছিটের ৩০৫ জন বাসিন্দা প্রথম অবস্থায় ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত দুই দফায় ভারতে গেলেন ২৩০ জন বাসিন্দা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৯ নভেম্বর ভারতে যান ৭২জন। মঙ্গলবার যান ১৫৮ জন। বাকি ৭৫ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ জন না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত আবেদন করেন এবং চারজন এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নিকট কাগজপত্র জমা দেননি। তবে বাকিরা চাইলে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে যেতে পারবেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন।