সাংবাদিক পরিবারকে ফাঁসাতে সাজানো নাটক

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক নারী সাংবাদিকের পরিবারকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষ গুম ও চুরির নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
বুধবার দিবাগত রাতে পৌর এলাকার দড়িসোম গ্রাম সংলগ্ন কালীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে ওই সাংবাদিক বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
 
সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকার দড়িসোম মৌজার সিএস ১ নং খতিয়ানের সিএস ও এসএ ২৫ নং দাগের চার শতাংশ ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সরকারি খাসজমি দড়িসোম গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের মেয়ে রুনা আহমেদ লীজ পান। কিন্তু চলতি মাসের ৮ তারিখে গভীর রাতে একই গ্রামের মৃত সুলতান উদ্দিনের দুই ছেলে লিটন মিয়া ও স্বপন মিয়া এবং মৃত. আব্দুর রহিমের ছেলে নূর হোসেন ও তার স্ত্রী লিপি বেগমসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক বসতবাড়ি নির্মাণ করতে যায়। এতে রুনা আহমেদের পরিবার বাধা দিলে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মারতে উদ্যত হয়। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তারা চলে যায়। এ ঘটনার পরদিন সকালে রুনা আহমেদের মেয়ে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মাফুজা আফরিন মনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই জের ধরে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টায় ওই আসামিরা ওই সাংবাদিকের পরিবারকে ফাঁসাতে মিথ্যা গুম ও  চুরির নাটক সাজায়।
 
সাংবাদিক মনি জানান, তাদের বাড়ি সংলগ্ন বিবাদীদের জুতার দোকান থেকে গভীর রাতে মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। ব্যাপারটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান। ওসি রাতেই থানার উপ-পরিদর্শক (এইআই) মো. ফরিদ উদ্দিনকে ঘটনাস্থল পাঠালে তিনি সাজানো ঘটনার সত্যতা পান।
এসআই মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিবাদীরা ঘটনা সাজানো বলে স্বীকার করেছেন। তাই আমি ঘটনাস্থল থেকে এসে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো ঘটনার বিষয়টি জিডিতে নথিভুক্ত করেছি।’ 
 
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।