সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি জলমহালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে গেলে দখলদার গ্রুপ ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ওসি, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত: ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ২২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ২ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের বুলেট ও ১৪ রাউন্ড গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সূত্র জানায় থুবরী শিলচান্দ জলমহাল মনাফ গ্রুপ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। মানাউরা প্রভাতি মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সমপাদক তীর্থ রঞ্জন সরকারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে থুবরী শিলচান্দ জলমহালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে মনাফ গ্রুপের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে অভিযানকারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। হামলায় গোয়াইনঘাট থানার ওসি তদন্ত জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, এসআই আরিফুর রহমান, এসআই জাকির হোসেন, এএসআই আব্দুল মন্নান, এএসআই ওযায়ের ফারুক, এএসআই লুত্ফুর রহমান, কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিক, সোহেল আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আমান উল্লাহ ও ইজারাদার পক্ষের মাস্টার হেলাল উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন ও বোরহান উদ্দিনসহ অন্তত: ৩৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন ও বোরহান উদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা গ্রহণ করেছেন।
এ ব্যাপারে থুবরী শিলচান্দ গ্রুপ জলমহালের ইজারাদার পক্ষে তীর্থ রঞ্জন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, তারা সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী থুবরী শিলচান্দ জলমহালটি ইজারা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু মনাফ বাহিনী লিজ গ্রহণ করার পর প্রতিবছর জলমহালটি ফিসিংএর সময়ে দখল করে ফেলে। তীর্থ রঞ্জন জানান, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযান চলাকালে মনাফ বাহিনী পুলিশ ও সাধারণ জনগণের উপর হামলা চালায়।