চীনের ফুটবল টুর্নামেন্টের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। খেলোয়াড়রা দলের ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের দিকেই আঙ্গুল তুলেছেন। অধিনায়ক রাখঢাক না করে জানিয়ে দিয়েছেন কোচের কারণেই এমন অবস্থা। তবে নতুন কোচ মারুফুল হককে নেয়া হয়েছে বলে সেটাকে খুশি হয়েছেন তিনি।
ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের ভুল পরিকল্পনার কারণে চীনের ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে হেরে লজ্জা পেতে হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে দেশের নাম ডুবিয়েছেন লোপেজ। মামুনুলরা নিজের পজিশন বদলে অন্য পজিশনে খেলেছেন। কোচের কথায় অনভ্যস্ত পজিশনে খেলতে গিয়ে লজ্জা নিয়ে মাঠর ছাড়তে হয়েছে খেলোয়াড়দের।
চীনের টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হেরেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে চীনা দল লিজিয়ানের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে হেরেছে, গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ গোলে চীনের হেবেই ক্লাবকে হারিয়েছে।
এই ম্যাচের আগেই কোচ ফ্যাবিও লোপেজের চাকরি ঝুলে গেছে। খেলোয়াড়দের নানা পরীক্ষায় ফেলতে গিয়ে বাংলাদেশকে ভরাডুবির পথে ঠেলে দিয়েছেন কোচ। সেটা খেলোয়াড়রা বুঝতে পারছিলেন। আর সে কারণেই ঢাকা থেকে খবর গিয়েছিল খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের পজিশনে ফিরে যায়। এমন পরিকল্পনায় শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে, ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু তার আগেই তো বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ তকলিস সাইড বেঞ্চের ফুটবলার। তকলিসকে মামুনুলের সাথে তুলনা করে মামুনুলকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে তকলিসকে একাদশে নামান ফ্যাবিও। তার এমন অদক্ষতায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। কোমল আক্রমণভাগের ফুটবলার তাকে লেফটব্যাক পজিশনে নামিয়ে পুরো ডিফেন্স লাইনকে নষ্ট করে দিয়েছেন কোচ।
ফ্যাবিও সম্পর্কে খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন এই কোচ আমাদের দেশের কথা ভাবে না। মামুনুলরা নিজেদের পরিকল্পনায় শেষ ম্যাচ খেলতে নামের। শেষ ম্যাচ নিয়ে মামুনুল জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা যখন শেষ ম্যাচটা জেতার জন্য জান-প্রাণ উজাড় করে খেলছিলাম তখন কোচ ফ্যাবিও সাইড লাইন থেকে বলছিলেন ৪ গোল খাবে, ৪ গোল খাবে কারণ ওরা কেউ আমার কথা শোনে না।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে পরদিনই চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে। কোনো বিশ্রাম ছিল না। ২০ নভেম্বর ম্যাচের আগের দিন রাতে জানানো হয়েছে পরদিন সকাল ৮টায় মামুনুলদের খেলা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। মামুনুল প্রশ্ন করলেন, ভাবে ম্যাচ খেলা যায়। কোনো প্রস্তুতি না। আমরা তখন ক্লান্ত। রাতে এসে জানায় সকালে ম্যাচ।
একই পরিস্থিতি দ্বিতীয় ম্যাচেও। মামুনুলকে মাঠের বাইরে ঠেলে দিয়েছেন কোচ। যখন যা খুশি করেছেন বলে জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা।
কখনো জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও ফ্যাবিওকে তার দুই সহকারী কোচসহ চাকরি দিয়েছিল বাফুফে। সাফ লক্ষ্য রেখে দায়িত্ব পেয়ে একটা ম্যাচও জেতাতে পারেননি তিনি। গতকাল দুপুরে ঢাকায় আসলেও ফ্যাবিও সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেননি। চীনে বসে জাতীয় দলের জন্য নতুন কোচ নেয়ার কথা শুনে বিস্মিত হয়েছেন ফ্যাবিও লোপেজ।