সুদীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে অনেক উত্কণ্ঠা ও সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের আমেজে মুখরিত। কলাভবন, বাণিজ্য অনুষদ, কার্জন হল থেকে শুরু করে ছেলেদের হল, মেয়েদের হল ব্যানারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ঢাবির ১৯টি হলের ভেতর ছাত্রদের ১৪টি এবং ছাত্রীদের পাঁচটি, হলগুলো যেন ফিরে পেয়েছে হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য। ২৮ বছর পর নির্বাচন, যারা এই নির্বাচনে ভোটার তাদের গড় বয়স হবে ২৩ অথবা ২৪। অর্থাত্, অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী কাগজে ও পুস্তকে জেনেছে ডাকসুর কথা। ডাকসুর গৌরব ও ঐতিহ্যের কথা তারা জেনেছে বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন অথবা তাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে, যারা ঢাবিতে পূর্বে ডাকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন বা ২৮ বছর আগে যারা ছাত্র ছিলেন তাদের কাছ থেকে। ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে প্রতিটি ভোটারের মুখে একটি কথা ‘ভোট দিব দেখে-শুনে, যোগ্য প্রার্থী বেছে নিয়ে’। গ্রিক দার্শনিকরা বলেছেন, ভালো নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তির নেতৃত্বে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। বর্তমান ডাকসু নির্বাচন তার একটি অংশ যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে, যারা দেশকে বিনির্মাণ করবে স্বাধীনতা, সাম্য ও গণতন্ত্রের আদর্শে। সোনার বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে, এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও কলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আজ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি। একই ধারাবাহিকতায়, সঠিক এবং সুযোগ্য নেতৃত্বই পারে দারিদ্র্যমুক্ত সাম্য ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে। তাই দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আমরা এমন যোগ্য ও মেধাবীদের বেছে নেব যারা গড়ে তুলতে পারবে ভবিষ্যত্ সাম্য ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সোনার বাংলা। নেহেরু বলেছেন, দেশ ভালো হয় যদি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো হয়। সেই প্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয় ভালো হবে যদি যোগ্য ও মেধাবীরা ডাকসুর মতো নির্বাচনে নির্বাচিত হয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, আজ সভ্যতার গৌরব রক্ষার ভার অল্প লোকের হাতে। কিন্তু এই অত্যল্প লোকের ভার বহুসংখ্যক লোকের হাতে। ডাকসু নির্বাচনের প্রেক্ষিতে, আমরা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রার্থী নির্বাচিত করি, ঠিক তেমনি প্রার্থীর ভাগ্য আমাদের হাতে গড়া।
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়