স্মৃতিসৌধে হিন্দি গান!

গত ২ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এতে বেশ কয়েকটি হিন্দি গান পরিবেশন করা হয় এবং হিন্দি গানের সঙ্গে নৃত্যও পরিবেশিত হয়। আবার  দুপুরের দিকে এই অনুষ্ঠানে একাত্মতা প্রকাশ করতে আসা নবনিযুক্ত একজন শিক্ষক জুতা পরেই বেদিতে গান পরিবেশন করতে ওঠেন। পরে একজন শিক্ষার্থী তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জুতা খোলেন। প্রগতিশীল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অবাক হয়েছেন স্বাধীনতার মাসে স্মৃতিসৌধে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের একটি অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলেন! শুধু তাই নয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ যেন পরিণত হয়েছে প্রেমিক যুগলের আড্ডাখানায়! জুতা-সেন্ডেল পরে বেদিতে ওঠা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেও চলত শিক্ষার্থীদের জন্মদিন পালনের মহোত্সব। কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশ্য তা বন্ধ হয়েছে। স্মৃতিসৌধ কোনো অনুষ্ঠান পালন কিংবা আড্ডার স্থান নয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার পাশাপাশি অবস্থিত। অনেক দর্শনার্থী ক্যাম্পাসভিত্তিক বড় শহীদমিনারটি দেখতে ভিড় করেন। বিশেষ দিবসসমূহে এইসব স্থাপনায় কেউ যেন জুতা-সেন্ডেল পরে উঠতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। অথচ তার পরের দিনগুলোতে আবার জুতা-সেন্ডেল পরে বেদিতে উঠে আড্ডা দিতে দেখা যায় সর্বসাধারণকে। ‘শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতিসৌধে জুতা সেন্ডেল পরে ওঠা নিষেধ’—এমন কোনো সতর্কতামূলক বোর্ডও নেই এখানে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে নির্মিত এই স্থাপনাসমূহের পবিত্রতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করছি।

মো. আখতার হোসেন আজাদ

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া