মো. ছালাহউদ্দিন, মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা
মনপুরা উপজেলার চরনিজামে ভূমিহীনদের মাঝে ১৫ বছর আগে বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমির দখল ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূমিহীনরা। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাটে গতকাল রবিবার এই মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন অংশ নেন। পরে উত্তর সাকুচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ভূমিহীনরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় ভূমিহীন নেতা লিয়াকত কেরানী, মো. আবু তাহের, মো. ইসমাঈল, মো. মহিউদ্দিন ও সরোয়ার উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ভূমিহীনদের পক্ষে মো. আবু মুছা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ভূমিহীন নারী জান্নাত বেগম আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে জমির দখল বুঝে পাওয়ার দাবিতে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমিহীন নেতারা জানান, ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে জেলা প্রশাসন মনপুরা উপজেলার সাড়ে পাঁচশ ব্যক্তিকে দেড় একর করে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়। তারা এক বছর ভোগ দখল করে। পরবর্তীতে বন বিভাগ জমি দাবি করে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে। ভূমিহীনরা আদালতে মামলা করলে রায় তাদের পক্ষে যায়। মামলা চলাকালীন স্থানীয় অবৈধ দখলদারেরা জমি দখল করে নেয়। একদিকে বন বিভাগের দাবি জমি তাদের, অন্যদিকে অবৈধ দখলদারের দৌরাত্ম্য, যে কারণে জমির দলিল পেয়ে খাজনা, ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করেও ভূমিহীনরা জমির দখল পাচ্ছেন না। গত ১৫ বছর মন্ত্রী এমপিসহ স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছেন তারা। সর্বশেষ জমির দখল পাওয়ার জন্য তারা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন এসব ভূমিহীন।
ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানান, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসারে ভূমিহীনদের মাঝে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি বন্দোবস্ত দেওয়া অবৈধ।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, বন বিভাগের সঙ্গে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, সার্ভেয়ারেরা চরে গিয়ে সীমানা পিলার তৈরির কাজ করছে। বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ভূমিহীনদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, বন বিভাগ আর জেলা প্রশাসনের বিরোধের শিকার নিরীহ ভূমিহীনরা হতে পারে না। যেহেতু স্থানীয় প্রশাসন ভূমিহীনদের পাকা দলিল দিয়েছে এখন তাদেরকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া দরকার।
মনপুরা উপজেলার কলাতলী চরের ভূমিহীন নেতা মো. মাঈনউদ্দিন জানান, ঐ চরে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে ১শ ৯২ পরিবারকে দেড় একর করে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেয় উপজেলা প্রশাসন; কিন্তু গত ২৩ বছরও আইনি জটিলতার কারণে তারা জমি বুঝে পাননি। এভাবে স্থানীয় প্রশাসন ভূমিহীনদের মাঝে জমির দলিল দেয়; কিন্তু বুঝিয়ে দেয় না। এতে ভূমিহীনরা একদিকে মানবেতর জীবন যাপন করছে অন্যদিকে জমি না পাওয়ায় তাদের মাঝে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হচ্ছে।