পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে ১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
শান্তি চুক্তির দেড়যুগ পুর্তি উপলক্ষে বুধবার দুপুরে রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা প্রধান অতিথি ছিলেন। এছাড়া ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, কমিউনিস্টি পার্টির চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ সমাবেশ থেকে ১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা করেন সন্তু লারমা। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দালালি ও তোষামোদিকারীদের বয়কট করা, চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে হরতাল-অবরোধ, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনে প্রতিরোধ করা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি অফিস বর্জন করা।
সন্তু লারমা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে গত ১৮ বছরে কেবল টালবাহানাই হয়েছে। সরকার যে সমস্যার জন্ম দিয়েছে, সরকারকেই তার সমাধান করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার পূরণে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা না হলে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করবে অঞ্চলের মানুষ। পাহাড়িদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকার ও শাসকগোষ্ঠী জুম্ম জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নসাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে।
রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ সমাবেশে যোগ দেয়। পরে একটি র্যালি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে জনসংহতি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।