বাজারে থরে থরে সাজানো শীতের সবজি। টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, সিম, শসা, লাউ, নতুন আলু কি নেই! শুধু দামটাই বেশী। গত সপ্তাহের ব্যবধানে দামে তেমন হেরফের হয়নি। অথচ বাজারে এখন শীতের সবজির রমরমা।
শুক্রবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। এর আগে বৃহষ্পতিবার রাতে পাইকারীবাজার কাওরানবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকের পর ট্রাক ভর্তি সবজি নামানো হচ্ছে।
কাওরানবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে কয়েক’শ ট্রাক সবজি আসে এই বাজারে। তারপর এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরাবাজারে যায় এসব সবজি।
সবজি ব্যবসায়ী কবির বলেন, এখনতো সবজির ভরা মৌসুম। সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু দাম যে কেন কমছে না বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, এবার মোকামেই সবজির দাম তুলনামূলক বেশী। তাই আমাদেরও বেশী দামে কিনতে হচ্ছে। তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে সবজির দাম কমতে পারে বলে তিনি আশার কথা শোনান।
ঢাকা মহানগর মাছ ও কাঁচাবাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতায় কৃষক, সবজি ব্যবসায়ী সবাই লোকসান খেয়েছে। যে কারণে এবার সবজির দাম তুলনামূলক বেশী। তবে তিনি বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিবহন ভাড়া বেশী ছিল। ঢাকা থেকে বগুড়ায় যে ট্রাক ভাড়া ছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। তা এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু তারপরও সবজির দাম কমছে না।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা কাঁচাবাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ২৫ থেকে ৩০, পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা , বরবটি ৪৫ থেকে ৫০, মুলা ২৫ থেকে ৩০, নতুন আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শশা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতিটি বাঁধাকপি আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা , লাউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলেও দাম কমেনি এ পণ্যটির। প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।