সিলেটের চারটি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস

বৃহত্তর সিলেটের শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজও শুরু করেছে। এর মধ্যে সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর ও সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পরে এক বা একাধিক শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হতে পরে বলে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, বৃহত্তর সিলেটে বর্তমানে একটিমাত্র স্থলবন্দর রয়েছে, সেটি হলো তামাবিল।

সিলেট বিভাগীয় কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনার ড. গোলাম মনির  ইত্তেফাককে বলেন, সিলেটের ১৩টি শুল্ক স্টেশনের ব্যাপক উন্নয়ন প্রক্রিয়াধীন। আর তা হলে সিলেটের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ আমাদের জন্য বিরাট সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই বিদ্যমান বন্দরগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

কাস্টমস কমিশনার জানান, এই লক্ষ্যে ৩ শত একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।  ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ১১ কোটি করে মোট ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেটের বাইরে আরো ২টি শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই কাজও চলছে। গত রবিবার জাতীয় সংসদে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে স্থলবন্দরের সংখ্যা ২৩টি। সিলেটে ৪টিসহ আরো ৬টি স্থলবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, সিলেট জেলায় ভোলাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ, সুনামগঞ্জে ছাতক, চেলা, ইছামতি, বড়ছড়া, বগলী, চারাগাঁও, মৌলভীবাজারে মুড়ি (বেতুলী) ও চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এসবের মধ্যে আমদানি পণ্য হলো কয়লা, পাথর, চুনাপাথর, ক্লিংকার, আদা, পিঁয়াজ, পান, হেলমেট, আংগুর ইত্যাদি। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, তুলা, প্লাস্টিক সামগ্রী, সিমেন্ট, মেলামাইন, ক্লোরিন গ্যাস, আসবাবপত্র, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য।