অনলাইনে ব্যবসার নামে অর্ধ কোটি টাকার প্রতারণা

অনলাইনে পণ্য বিক্রির ব্যবসার নাম করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার বেশ কিছু লোকজনের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে উল্লাপাড়ার একটি প্রতারক চক্র। সম্প্রতি এই চক্রের তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার লোকজনের পক্ষ থেকে জেলা আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে। উল্লাপাড়া থানায় করা হয়েছে জিডি।
 
প্রতারণার শিকার উল্লাপাড়ার আতিকুর রহমান, শান্তা ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, শাহজাদপুরের আব্দুল মমিন, সাইদুল ইসলাম ও আইয়ুব আলীসহ বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসে পিপিএম পদে কর্মরত আব্দুল হান্নান সরকার, তার ছেলে তুষার সরকার ও মেয়ে রনি খাতুন প্রায় ছয় মাস আগে উল্লাপাড়া পৌরসভার ঝিকিড়া মহল্লায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইন ব্যবসার নামে একটি অফিস খুলে বসেন। অফিসে বিভিন্ন লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে তারা কম্পিউটারে কৌশলে ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্মার্ট ফোন, এসি মেশিন ও ট্যাপসহ ব্যায়ামের বিভিন্ন আধুনিক সামগ্রী প্রদর্শন করে অনলাইনে পণ্য ব্যবসার ফাঁদ পাতেন। অতিরিক্ত লাভের আশায় এরা কয়েক দফায় ওই ব্যক্তিদের হাতে মোটা অংকের টাকা জমা দেন। প্রথম অবস্থায় এদেরকে কিছু লাভও দেয় ওই অনলাইন ব্যবসার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।
 
অভিযোগে বলা হয়েছে, চক্রটি আতিকুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ ৩০ হাজার, শান্তা ইসলামের কাছ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার, ইসমাইল হোসেনের কাছে থেকে আট লাখ, আব্দুল মমিনের নিকট থেকে ১১ লাখ, সাইদুল ইসলামের কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার, আইয়ুব আলীর নিকট থেকে ৫০ হাজার, শাহজাদপুর উপজেলার চিনাধুকুরিয়া গ্রামের বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস গুটিয়ে ফেলেন।
 
ভুক্তভোগীরা উল্লাপাড়া কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আজমল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কথিত প্রতারক চক্রের সদস্য আব্দুল হান্নান প্রথম দিকে এসব টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন।
 
আমজল হক জানান, তিনি কয়েক দফা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তার অফিস কর্মী আব্দুল হান্নানকে নিয়ে দেন দরবার করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরে বিষয়টি ফয়সালা করার জন্য তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. মারুফ বিন হাবিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. মারুফ বিন হাবিব জানান, আব্দুল হান্নানকে নিয়ে তিনি তার অফিসে একাধিক সমঝোতা সভা করেছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হান্নান কোনো টাকা ফেরত দেননি।
 
ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান জানান, নিরুপায় হয়ে তিনি তার নিজের দেয়া ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধারে প্রথমে উল্লাপাড়া থানায়  হান্নান ও তার ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। পরে তিনি সিরাজগঞ্জ আদালতে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি প্রতারণার মামলা করেন। কথিত
 
আব্দুল হান্নান এরই মধ্যে আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছেন। আদালত হান্নানের ছেলে তুষার সরকার ও মেয়ে রনি খাতুনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ইস্যু করায় দুজন এখন পলাতক রয়েছেন।
 
অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান জানান, ওই টাকা বিনিয়োগকারীদেরকে কিস্তিতে ফেরত দেয়া হবে। তবে তুষার ও রনি খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।