চট্টগ্রামে সোনা চোরাকারবারীদের সন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ

শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের সন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ। গত রবিবার জেলার মিরসরাই থানার জোরারগঞ্জ ও নগরীর সিআরবি এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩১ কোটি টাকা মূল্যের ৭শ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধারের পর চোরাচালানের নেপথ্য নায়কদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। ওই দুইটি ঘটনায় চারজন আটক হলেও তারা বাহক বলেই ধারণা পুলিশের। অবশ্য চট্টগ্রামের পুলিশ অতীতে কখনো স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদারদের ধরেছে- এমন নজীর খুব একটা নেই। বরাবরই বিদেশ থেকে অবৈধ পথে আনা স্বর্ণের চালানের সঙ্গে শুধু বাহক গ্রেফতার হয়েছে। সঙ্গত কারণেই স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত মামলাগুলোও এক পর্যায়ে গিয়ে স্থবির হয়ে গেছে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এবার বড় চালান ধরা পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের উত্স ও গডফাদারদের ধরতে এবার কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, স্বর্ণের উত্স ও স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদারদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। মিরসরাইয়ে গ্রেফতার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা নিজেদের তথ্য ছাড়া এখনো তেমন কোনো তথ্য দেয়নি। রিমান্ডে এনে আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মিনা আরো বলেন, স্বর্ণগুলোর উপর ইউএই লেখা রয়েছে। এর মানে এসব স্বর্ণ দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তবে কীভাবে বা কোন মাধ্যমে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশে এসেছে তা আমরা বলতে পারব না। তদন্ত সাপেক্ষে বের করা হবে।

সিএমপির উপ-কমিশনার (ডিবি-বন্দর) এসএম মোস্তাইন হোসাইন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, মিরসরাই ও নগরীতে পাওয়া স্বর্ণের বারগুলো দেখতে একইরকম। একইদিনে দুইটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তিনি বলেন, আটক আসামিদের রিমান্ড শুরু হয়েছে। তাদের নেপথ্যের গডফাদাররা যত শক্তিশালী হোক না কেন তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে।

এদিকে, চট্টগ্রামে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দুইটি বড় চোরাচালান আটকের ঘটনায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের নাম। নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এই বাজার থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে সিআরবি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০০ পিস স্বর্ণের বার। এর ঘণ্টা দুইয়েক পর মিরসরাইয়ে স্বর্ণসহ আটক আসামিরা রিয়াজ উদ্দিন বাজার থেকে ৬শ পিস স্বর্ণের বার সংগ্রহের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

স্বর্ণ চোরাচালানের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার এক রহস্যময় এলাকার নাম। এখানে কোনো স্বর্ণের দোকান না থাকলেও গত দশ বছরে চট্টগ্রামে অবৈধ স্বর্ণ উদ্ধারের বিভিন্ন ঘটনায় ঘুরেফিরে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের নাম উঠে এসেছে। সিএমপি সূত্র জানায়, ২০১০ সালের নভেম্বরে রিয়াজ উদ্দিন বাজার সংলগ্ন রেলস্টেশন এলাকায় বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে তিনটি স্বর্ণের বার ও দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করে র্যাব। সেই সূত্রে রিয়াজ উদ্দিন বাজারে আজিজ নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সেসময় র্যাব জানায় গ্রেফতার দুইজনেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য। ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি নগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের বাহার মার্কেট থেকে তিনটি সিন্দুক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া একটি সিন্দুক থেকে ২৫০টি স্বর্ণের বার ও আরেকটি সিন্দুক থেকে পাওয়া যায় নগদ ৬০ লাখ টাকা। তৃতীয় সিন্দুকটি খালি ছিল। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুবাইকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী আবু আহমেদ ও তার ম্যানেজার এনামুল হক ওরফে নাঈমকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। নাঈম পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্য স্বর্ণ পাঠায় চট্টগ্রামে। 

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জোরারগঞ্জ থেকে আটক স্বর্ণ চোরাকারবারী করিম ও রাকিবের বাড়ি চুয়াডাঙা জেলার দর্শনায়। করিম নিজেকে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে।