ইত্তেফাক রিপোর্ট
কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মূল্যবান মৌ সম্পদ এবং মধু উত্পাদন ও বিপণনের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। মধু উত্পাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। মৌ চাষের বিষয়টি স্বল্প শ্রম ও স্বল্প পুঁজির বিনিয়োগের তুলনায় অধিক মুনাফা লাভের সম্ভাবনাময় পেশা ও ব্যবসা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। গতকাল রবিবার কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জাতীয় মৌ মেলা-২০১৯ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন। ‘ফলন, আয় ও পুষ্টি বাড়াতে মৌ চাষ করি’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খামারবাড়িতে আ.কা.মু গিয়াস উদ্দিন মিলকি অডিটরিয়াম চত্বরে তিন দিনব্যাপী মৌ মেলা শুরু হয়েছে। চলবে ১২ মার্চ পর্যন্ত। এবারের মেলায় মোট ৬০টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই কৃষিসহ ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সুউচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন। কৃষিকে প্রকৃত বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করতে হবে, এর জন্য বাজারজাত, বিপণন ও রপ্তানি অপরিহার্য। জাপান আমাদের দেশ থেকে মধু আমদানি করে। তা হলে সে দেশে আরও অনেক কিছু রপ্তানি করা যাবে, সেগুলো বের করতে হবে। আমাদের প্রক্রিয়াজাত ও দেশীয় ব্র্যান্ড না থাকায় কাঁচা মধু রপ্তানি করতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মৌ চাষ পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরাগায়ণের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফসলের মাঠে মৌ চাষ কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের সংস্থান করে থাকে। মৌ সম্পদের টেকসই উত্পাদন নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রসেসিং ও বাজারজাত অপরিহার্য। আমাদের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ অংশটুকু নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও মৌ চাষ ও বিপণনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে। এখাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মোট ৩০ শতাংশ নারী জড়িত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মীর নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর মোঃ আহসানুল হক স্বপন।