নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়

নারী দিবসের আলোচনায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

লিঙ্গভিত্তিক সমতা অর্জনে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন জরুরি। বাংলাদেশের জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। তাই এসডিজি অর্জনে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল রবিবার বিকালে ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো। নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’ এ স্লোগান নিয়ে ‘ইউবিআর বাংলাদেশ এলায়েন্স’, ‘হ্যালো আই এ্যাম’ কনসোর্টিয়াম এবং ‘আরএইচআরএন প্লাটফর্ম’ যৌথভাবে নারী দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশু বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, বিশেষ অতিথি নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েইজ এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. অসা টর্কেলসন।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকার জন্য কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। সেইসঙ্গে ব্যবসা ক্ষেত্রেও নারীর যুক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা নারীর ক্ষমতায়নকে নিশ্চিত করছে। হ্যারি ভারওয়েইজ বলেন, নেদারল্যান্ডসের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে নারীর প্রতি সকল সহিংসতা প্রতিরোধ, রাজনীতিতে সমনাগরিকত্ব, অর্থনেতিক স্বাধীনতা ও সমাজের সকল স্তরে নারী-পুরুষের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টিতে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি। ড. অসা টর্কেলসন বলেন, জেন্ডার সমতা অর্জন ছাড়া ২০৩০ এর মধ্যে এসডিজি অর্জন করা সম্ভব হবে না। যে কোনো জাতির জেন্ডার সমতা অর্জনের মূল বিষয় নারীর ক্ষমতায়ন।

অন্যদের মধ্যে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী প্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ দিবালোক সিংহ, পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং-এর নির্বাহী পরিচালক ডঃ নূর মোহাম্মদ, বন্ধুর-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমদ এবং নারী পক্ষের ইউএম হাবিবা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দল মাদলের ঢোল বাদনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং শেষে সংগীত শিল্পী সায়ান গান পরিবেশন করেন। বিশেষ আকর্ষণ ছিল সত্ত্বা নামক হিজড়া সম্প্রদায়ের দলীয় নৃত্য পরিবেশনা এবং কিশোর-কিশোরী ও যুবদের অংশগ্রহণে নারীর জীবনচক্র নিয়ে নাটিকা “চক্রভঙ্গ”। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন আফরোজা বেগম।