বঙ্গবন্ধুতে নয়, ইউনাইটেডে যেতে যান খালেদা জিয়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে যেতে চাননি কারাবন্দি খালেদা জিয়া। তিনি বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে চান বলে ড্যাব নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার জানিয়েছেন। আর্থাইটিসসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত খালেদাকে রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আপত্তিতে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয় বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দুপুরে এই খবর জানাজানির পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কেবিন ব্লকের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি সমর্থকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার। তিনি বলেন, আমার কাছে যে তথ্য আছে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এমনকি হুইল চেয়ারের যে পাদানি থাকে সেখানেও উনি ঠিকমতো পা তুলতে পারেন না। উনার যে ইচ্ছাটা এবং কয়েক দিন আগে কারাগারে উনাকে দেখতে যে বিশেষজ্ঞ টিম গিয়েছিল অধ্যাপক এএফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে উনারাও স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করতে। কারণ উনি ওই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিত্সা নিয়ে থাকেন এবং ওখানেই উনার নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, যারা সারাজীবন উনাকে চিকিত্সা দিয়েছেন তারা সেখানে আছেন।

এর আগে বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এখানে আসার কথা ছিল। উনি আজকে আসবেন না। আমরা যে কোনো সময়ে উনাকে এখানে চিকিত্সা সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’ খালেদা জিয়া আসতে না চাওয়ার পেছনে কী যুক্তি দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, উনি আসবেন না। আমাদের এখানে উনার জন্য প্রস্ততি ছিল, আমাদের মেডিকেল বোর্ডও প্রস্তুত ছিল। কেবিন প্রস্তত ছিল উনার জন্য। উনি আসলে আমরা যথাযথভাবে চিকিত্সা সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।’

খালেদা জিয়া কী কী রোগে ভুগছেন জানতে চাইলে ড্যাবের বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, উনাকে দুইবার এখানে আনা হয়েছে। রিউমাটোয়েড আর্থাটাইটিসে জয়েন্টগুলো অলরেডি ডিফরমেটিভ হয়ে গেছে, এমন ডিফরমেটিভ যে উনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারছেন না।’