পরপর দু’দিন দুটি দল ৫৮ ও ৫৯ রানে অল আউট হয়েছে। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ৬ বার দেখা গেছে একশ রানের নিচে অল আউট হওয়া ইনিংস। ১৭০ বা তার চেয়ে বড় স্কোর হয়েছে সাতটি মাত্র।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বললে যা মনে হয়, বিপিএল যেন তার ঠিক উল্টো রথে চেপে বসেছে। প্রথম তিনটি দিন বাদ দিলে টানা কম রানের খেলা হয়ে চলেছে। কেন এমন হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ ব্যাটসম্যান উইকেট খারাপ বা উইকেট অননুমেয় বলে বলছেন। তারা দায়টা দিচ্ছেন উইকেটকে। কিন্তু উইকেট কী এতোটাই খারাপ যে, নিয়মিত দলগুলো একশ রানের নিচে অল আউট হতে থাকবে!
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা অন্তত তা মনে করছেন না। দেশের দুই সাবেক অধিনায়ক, ক্রিকেট বিশ্লেষক ও বর্তমান নির্বাচক ফারুক আহমেদ ও মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছেন, দায়টা শুধু উইকেটের নয়। ব্যাটসম্যানরাও উইকেট বুঝতে না পেরে অনেক তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বিপর্যয় ঘটাচ্ছেন।
বিপিএলের চলতি আসরে উইকেট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বোলিংটা সত্যিকারেই ভালো করছে। উইকেট টু উইকেট বোলিং হচ্ছে। উইকেট সাহায্য করছে বোলারদের। আমরা যেমন ক্লাসিক উইকেট দেখি, ওয়ানডে ক্রিকেটে। এরকম ক্লাসিক বলা যাবে না। উইকেটে একটু ঘাসও আছে। বাউন্স হচ্ছে। লো স্কোরিং ম্যাচ হওয়ার জন্য এটাও একটা কারণ হতে পারে।’
শুধু উইকেটকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এজন্য ব্যাটসম্যানরাও দায়ী এমনটি জানিয়ে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘প্রতিটি দলই নামার আগে চিন্তা করছে ১৭০ রান করার। কিন্তু শুরুতে উইকেটে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে। এখানে ১৩০/১৪০ হওয়ার মতো উইকেট। তবে উইকেট এতটা বোলিং ফেবারিট না যে একশ রানের নিচে বারবার অলআউট হবে দলগুলো। এরকম উইকেট না, আরকি। ব্যাটসম্যানরা আমার মনে হয় আরো একটু মনোযোগী ব্যাটিং করলে বড় স্কোর হতো। আজকেই যেমন চট্টগ্রামের বিপক্ষে ঢাকা ১২১ রান করেছে। এখানে ১৪০ হতে পারতো।’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু রান হলেই জমে না। লো স্কোরিং ম্যাচেও মজা আছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘রান হলেই যে জমজমাট হবে এভাবে চিন্তা করলে হবে না। হ্যাঁ, ওয়ান সাইডেড ম্যাচ হচ্ছে, এটা আপনি বলতে পারেন। লো স্কোরিং ম্যাচ হওয়াটাও কিন্তু ভেরি এক্সাইটিং। আমরা সব সময় ধারণা করি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৮০ হলে জমজমাট ম্যাচ হতো। তবে এটা ঠিক, আরো বেশি রান হলে দর্শকরা মজা পেত। চার, ছয় দেখতে পারতো। এটা হচ্ছে না এই আরকি! হয়তো ব্যাটসম্যানরা উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না। অথবা বোলাররা খুব ভালো বোলিং করছে।’
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের সাথে সুরে মিলিয়ে সহকারী নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, উইকেটের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। ডিসেম্বর মাসে উইকেটে ময়েশ্চার থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এটা মাথায় রেখেই ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং করতে হবে। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি। কেউ বাজে শট খেলে আউট হয়ে উইকেটের দোষ দিবে, তা হতে পারে না।
এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ভালো বোলিং হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সঙ্গে এটাও বলবো ব্যাটসম্যানরা বাজে ব্যাটিং করছে। তারা যদি তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করত তাহলে আরো বেশি রান হতো। আরো বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।