পূর্বঘোষিত সময়েই হবে পেশাদার লিগের ফুটবলারদের দল বদল। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক এক সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কোনো বিতর্ক যেন ফুটবলকে গ্রাস না করে সে ব্যাপারেও আহ্বান জানানো হয়।
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে কাল তার পান্থপথের অফিসে এ সভা হয়। সেখানে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী, সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, তাবিথ আওয়াল, বাদল রায়, সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এমপি, হারুনুর রশিদ, শেখ মারুফ হাসান, সত্যজিত দাস রুপু, ইকবাল হোসেন, বিজন বড়ুয়া, ফজলুর রহমান বাবুল সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারপরও বলা হয়েছে এটা বাফুফের কোনো সভা নয়। সভাপতি ডেকেছেন অনানুষ্ঠানিক কথা বলতে। আলোচনার এই টেবিলে কিছু সময়ের জন্য ছিলেন ব্রাদার্সের কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুহি।
মূলত ক্লাব সমিতির পাঁচ ক্লাব আগস্টে দলবদল, সেপ্টেম্বরে লিগ শুরু করা, লিগ কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে গড়ে তোলাসহ যেসব দাবি তুলেছিল তা নিয়েই সভায় বসেন বাফুফে কর্মকর্তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভা শেষে যা বেরিয়ে এলো তা হচ্ছে কোনো দাবি আমলে নেয়নি বাফুফে। সরাসরি না বললেও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়েই দলবদল হবে।
এ সভা শেষে কাজি সালাহউদ্দিন সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেননি। এসব ক্ষেত্রে সালাম মুর্শেদী গণমাধ্যমের সামনে এলেও কাল কথা বলেন বাদল রায়। বাফুফের এই সহ-সভাপতি জানান, তারা চান ফুটবলের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। যে কোনো মূল্যে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। বাদল রায় বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি-বিশেষের হুমকি-ধামকি যেন প্রভাব ফেলতে না পারে তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি এও জানান যে, মাঠে ফুটবল রাখার ব্যাপারে সবার সাথে আলোচনা করা হবে। তার মতে, ‘হকি সংকট’ দাবায় গিয়ে পড়ছে। এটা যেন ফুটবলে না হয়।
বাফুফের সমালোচনা করায় মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন এবং শেখ জামালের সভাপতি মঞ্জুর কাদেরকে শোকজ করেছে বাফুফে। গত শনিবার ক্লাব সমিতির সদস্যদের মধ্যে পাঁচটি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে দল বদল পেছানোর দাবি করে। এরকম পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে ফুটবলে যেন অশনিসংকেত দেখছেন ক্রীড়ামোদীরা। বাফুফের সদস্য হারুনুর রশিদ বললেন, ব্যক্তিবিশেষের অনুযোগ অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু সব কিছুর পরও দেখতে হবে কোনো বিতর্ক যেন খেলার মাঠ বিঘ্নিত করতে না পারে। মাঠের বাইরের বিতর্ক বাইরেই থাকা উচিত।
পরিস্থিতি যা তাতে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পাঁচ ক্লাব দাবি তুললেও মঞ্জুর কাদের এবং লোকমান হোসেনই বাফুফের কাছে প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন। বাফুফের কর্মকর্তারা এই দু’জনের মধ্যে লোকমান হোসেনের উপর বেশি ক্ষিপ্ত। দু’জনের দাবির বিরুদ্ধে বাফুফে এখন অনঢ় অবস্থানে। তারা চান যে কোনোভাবেই হোক ঘোষিত সময়ে দল বদল হতে হবে। প্রয়োজনে বাফুফে সরকারের শীর্ষ মহলেও যোগাযোগ করবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৬ ডিসেম্বর ফুটবলারদের দলবদল শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই জাতীয় ফুটবল দল ভারতের কেরালায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে চলে যাবে।