যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। এতদিন ভিন্ন ভিন্ন নেতৃত্বের সমস্যা থাকলেও সম্প্রতি সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ অবস্থান নিয়েছেন দুই মেরুতে। এক সপ্তাহে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি কার্যনির্বাহী সভা করে কার্যত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের এই কোন্দলকে প্রকাশ্যে রূপ দিলেন।
গত রবিবার সভাপতির সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা করেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। ফলে সেখানে যাননি সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এর মাত্র একদিনের ব্যবধানে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জরুরি সভা আহ্বান করলে সেখানে যোগ দেননি সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান। অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সভাস্থলের বাইরে অবস্থান নেন।
এতে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে ওই সভায় দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে। যদিও ওই সভা থেকে বেরিয়ে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছে। একটি রাজনৈতিক সংগঠনে এ ধরনের ছোটখাটো কোন্দল থাকতেই পারে। আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করবো। সভার সিদ্ধান্তসমূহ পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
ওই সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকলেও গত রবিবার সাধারণ সম্পাদকের আহ্বান করা সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে সভাপতিত্ব করেছেন, যা গঠনতন্ত্র বিরোধী। এ কারণে তাকে শোকজ করা হতে পারে।
IMG0
ড. সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, গঠনতন্ত্রের ধারা মোতাবেক তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করেছেন। সভায় বেশকিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে অন্যরা যে সভা করেছেন তা ছিল ঘরোয়া বৈঠক। তবে তিনি দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদককে বিকাল ৪টায় সভায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি এসেছিলেন শেষ মুহূর্তে।
যদিও সভা চলাকালে জুইশ সেন্টারের বাইরে অবস্থারনরত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান যে সভা ডেকেছেন তা অবৈধ। তিনি কিভাবে এই সভা আহ্বান করলেন তা আমরা দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করবো।
এদিকে, সাধারণ নেতাকর্মীরা এই কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা সেই দলে ঘাপটি মেরে থাকা মুহূর্তে কুচক্রী একটি মহল কলকাঠি নাড়ছেন। তারা এই কোন্দলকে উস্কে দিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। জানা গেছে, ২০১২ সালে কমিটি গঠনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে সংকট চলে আসছে। এই সংকটের মধ্য থেকেই বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানান কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
কথিত দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিল করায় ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাস ধরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছেন। নেতাকর্মীরা এর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, একটি কুচক্রী মহল যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কোন্দল তৈরিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফল হয়েছেন।