আওয়ামী লীগের প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে বিএনপির আগুন সন্ত্রাস

দীর্ঘ সাত বছর পর নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল বুধবার থেকে প্রতীক ছাড়াই ঘরোয়া বৈঠক ও জনসংযোগের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের টানা ৯২ দিনের জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও আগুন সন্ত্রাসের চিত্রসহ জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু। একদিকে আওয়ামী লীগের টিম, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় টিম ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। ক্ষমতাসীন জোটের টিমটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য দেশব্যাপী ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াকে আহ্বায়ক করে গঠিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলের প্রচারণা টিম এখন তৃণমূলে অবস্থান করছে। জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা মন্ত্রী-এমপি নন তারা এই টিমের সদস্য। পর্যায়ক্রমে টিমটি সারাদেশে সফর করবে। 

 
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা গণসংযোগ চালাতে পারলেও পারবেন না আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান মন্ত্রী-এমপিরা। প্রচার-প্রচারণায় সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন। তারপরও প্রচারণার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে সেজন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে নতুন কৌশল হিসেবে একদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের টিম এবং অন্যদিকে জোটের কেন্দ্রীয় টিম তৃণমূলে প্রচারণা চালাচ্ছে। দুটি টিমই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে বিএনপির টানা ৯২ দিনের আগুন সন্ত্রাসের চিত্র ভোটারদের কাছে তুলে ধরছে। তারা আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, পুড়িয়ে মানুষ মারার প্রতীক হলো ধানের শীষ। আর এসব প্রচারণাসহ সার্বিক বিষয় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা মন্ত্রী-এমপি তারাই এ দায়িত্ব পালন করছে। সেখান থেকে সার্বিক বিষয় সঙ্গে সঙ্গে দলীয় সভানেত্রীকে জানানো হচ্ছে।
 
২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে ১০৪টি পৌরসভা নিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগ। একদিকে নিজ দলের ৬১ বিদ্রোহী প্রার্থী, অন্যদিকে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ৫টি দলের ৪৩ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। শরিকদের প্রার্থী থাকা ৪৩টি পৌরসভায় প্রচারণার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের টিমটি কারো পক্ষে অবস্থান না নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ ও শরিকদের প্রার্থীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কোন ছাড় হবে না। এদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৬১ প্রার্থী আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দল থেকে তাদের আজীবন বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত রয়েছে আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে ১৪ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। তারাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে।
 

প্রচারণায় অংশ নেয়া কেন্দ্রীয় ১৪ দলের প্রচারণা টিমের আহ্বায়ক দিলীপ বড়ুয়া জানান, দেশে বর্তমানে দুটি শক্তি বিদ্যমান। একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। অন্যটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। যার নেতৃত্বে আছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দিকে বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে নারী-শিশু-অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশবাসীর কাছে ১৪ দলীয় জোটের একটাই চাওয়া, তারা যেন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তির প্রার্থীদের বিজয়ী করেন। কারণ স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে ক্ষমতা চলে গেলে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।