বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা ক্যাম্পাসের বাইরে বের হতে পারছে না।
শুক্রবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তারা নৈশপ্রহরী বাদলের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে। গোটা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ছাত্রী উত্যক্তের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যবিপ্রবি শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে ঘণ্টাব্যাপি ধাওয়া পাল্টা ধায়া ও সংঘর্ষ হয়।
যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী বাদলের ভাই শরীফ এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা বাদলকে ডেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বাদল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে মারপিট করলে বাদল ফোন করে গ্রামবাসীকে ডেকে আনেন। এরপর স্থানীয়দের সাথে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সিকদার আককাস আলী জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে জরুরি সভায় ঘটনা তদন্তে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রক্টর ড. মশিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হাতে দমন করারও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন উপাচার্য।