কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স—রংপুর রাইডার্স

সরাসরি ফাইনালের লড়াই

দুপুরের পর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ালেও গতকাল শুক্রবার বোঝার উপায় ছিলো না যে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলা চলছে।

সেরা চারের তিন দলই হোটেলে, একটু শপিংয়ে সময় কাটালো। টানা খেলার ধকলে ক্লান্ত খেলোয়াড়রা কোয়ালিফায়ার, এলিমিনেটরের আগেও মাঠে আসলেন না। কেবলমাত্র রংপুর রাইডার্সের খেলোয়াড়রা সকাল বেলায় এসে ঘাম ঝরালেন। তাদের ঘাম ঝরানোর কারণও আছে—গতকালসহ টানা তিন দিন বিশ্রাম পেয়েছে তারা কোয়ালিফায়ার খেলার আগে। সেই বিশ্রাম থেকে পাওয়া শক্তিই আজ তারা কাজে লাগাতে চায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে। অন্য দিকে কুমিল্লার চাওয়া অবিশ্বাস্য ছন্দটা ধরে রাখা। কুমিল্লা ও রংপুর দু’ দলেরই আসল চাওয়া সরাসরি ফাইনালের টিকিট।

এই চাওয়া নিয়ে আজ দুপুর ২টায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি চলে যাবে ১৫ ডিসেম্বরের ফাইনালে। পরাজিত দলেরও আশাহত হওয়ার কারণ নেই। তারা আরেকটা সুযোগ পাবে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ, এলিমিনেটর ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে তারা। সেখানে জিতলে জুটবে ফাইনালের টিকিট।

কাগজে-কলমে আজকের প্রথম ম্যাচে অবশ্যই এগিয়ে থাকা দল রংপুর। এবার বিপিএলেরই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল সাকিব আল হাসানের দলটি। তবে কাগজ-কলমের হিসেব বাদ দিয়ে শুধু বিপিএলে উত্থান ও প্রভাব বিচার করলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এগিয়ে থাকবে কয়েক যোজন। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ইনজুরিগ্রস্ত ও নানা সমস্যায় জর্জরিত খেলোয়াড়দের দলটি রীতিমতো রূপকথা তৈরি করে গ্রুপ পর্বের সেরা দল হিসেবে সেরা চারে এসেছে।

কুমিল্লার বিপিএল যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো ঢাকার বিপক্ষে পরাজয় দিয়ে। এরপরই নাটকীয়ভাবে জয়ের দারুণ ধারায় চলে আসে তারা। এরপর টানা জয় পেলো তারা চিটাগং, বরিশাল ও রংপুরের বিপক্ষে। চট্টগ্রাম পর্বে সিলেটের বিপক্ষে ছন্দপতনের একটা পরাজয়। আবার টানা তিন জয় পেলো তারা ঢাকা, চিটাগং ও বরিশালের বিপক্ষে। আর শেষের আগের ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে হারলেও সিলেটের বিপক্ষে দানবীয় জয়ের ‘মোমেন্টাম’টা দারুণ রেখেই শেষ করেছে তারা প্রথমপর্ব।

এই দারুণ খেলেছে দলটি আসলে আক্ষরিক অর্থে ‘ভাঙাচোরা’ একটা দল নিয়ে। লিগের শুরু থেকে কুমিল্লা একটার পর একটা বিপর্যয়ে পড়েছে। ভালো খেলতে থাকা মারলন স্যামুয়েলস ফিরে গেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইনজুরিতে পড়েছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। সুনীল নারিন নিষিদ্ধ হয়ে ফিরে গেলেন। এমন অবস্থা হলো যে, কুমিল্লা চার বিদেশির কোটা পূরণ করতে হিমশিম খায়।

এদিকে প্রথম পর্বের মাঝামাঝি এসে দলের নিয়মিত পারফরমার হয়ে ওঠা নুয়ান কুলাসেকেরা ও শোয়েব মালিকও পড়লেন ইনজুরিতে। ডলার মাহমুদ বলই করতে পারলেন না। পাশাপাশি লিটন দাশ, ধীমান ঘোষদের বিস্মরণযোগ্য পারফরম্যান্স। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হয়ে উঠলো অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারই ইনজুরি। তিনি বোলিং করতে পারবেন না জেনেও সে ফ দলের প্রয়োজনে মাঠে লড়াই চালিয়ে গেলেন। সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি নিজেই বলছিলেন, এখনও তারা এই সংকটেই আছেন, ‘ইনজুরির অবস্থা খুব কঠিন। এ মুহূর্তে প্রায় পাঁচ-ছয় জন ক্রিকেটার ইনজুরিতে আছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররাই ইনজুরিতে। ফিজিওর উপর খুব চাপ পড়ে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের ফিট করতে। কুলাসেকারা বিশ্রামে ছিল। আজকে খেলেছে কিন্তু পুরোপুরি ফিট না। অলোককে কোনোভাবে নামিয়ে দিয়েছি। আমি বোলিং করতে পারছি না। রাব্বিও আছে। মালিকও ইনজুরিতে। ওর দশটা ইনজেকশন নেয়ার কথা রয়েছে। আটটা নিয়ে নিয়েছে। আজকে খেলাতে হলে সেমিফাইনাল খেলিয়ে ওকে শেষ করতে হত। তাই তাকে বিশ্রামে পাঠাতে হত।’

রংপুরের এমন কোনো সংকট ছিলো না। তাদের দলটা সবসময়ই তারকায় ভরপুর ছিলো। কিন্তু সমস্যা একটাই, তাদের দেশি পারফরমাররা সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছেন না। বিশেষ করে সৌম্য সরকার ও সাকিব নিজে ব্যাট হাতে খুব ভালো কিছু করতে পারেননি। তবে সাকিবের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সাথে শেষ দিকে জহুরুল ইসলামদের ব্যাটিং দিব্যি পার করে এনেছে দলটিকে। এখন চ্যালেঞ্জ, প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখা।