নাম একটাই—আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ। লোকেরা বলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কার্যত দুটো টুর্নামেন্ট চলবে একসঙ্গে—পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গতকাল আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি টুর্নামেন্টের গ্রুপিং ও সূচি ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ পুরুষদের দলটিকে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম পর্ব নামের বাছাইপর্ব খেলে আসতে হবে। আর মেয়েরা সরাসরি খেলবে তাদের ‘বি’ গ্রুপে। একটা মিল হলো, মেয়েদের গ্রুপে আছে ভারত ও পাকিস্তান। অন্যদিকে ছেলেরা সুপার টেনে আসতে পারলে সেখানেও গ্রুপপর্বে আছে ভারত ও পাকিস্তান। তবে আসল মিলটা হলো, দু’দলই মনে করে, শুধু ভারত বা পাকিস্তান নয়; টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কোনো সেরা দলের বিপক্ষে সেরাটা খেলতে তারা প্রস্তুত। এমন দাবি করছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং মেয়েদের অধিনায়ক জাহানারা আলম।
ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ ছেলেদের দলের গ্রুপে আছে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও ওমান। আর প্রথম রাউন্ড পার হলে মূল পর্বে বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী হবে স্বাগতিক ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আর মেয়েদের খেলায় তাদের গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তান।
ছেলেদের প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশের সব ম্যাচই হবে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামগুলোর একটি ধর্মশালায়। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে খেলবে জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তান ও হংকং। এই গ্রুপের ম্যাচগুলো হবে নাগপুরে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই অনেকটা কোয়ালিফায়ারের আদলে প্রথম রাউন্ড হয়ে আসছে। প্রথম রাউন্ডে দুই গ্রুপের শীর্ষ দল খেলবে সুপার টেন পর্বে, যা আদতে টুর্নামেন্টের মূল পর্ব। সুপার টেনে উঠতে পারলে বাংলাদেশ থাকবে ২ নম্বর গ্রুপে। ১ নম্বর গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রথম রাউন্ডের ‘বি’ গ্রুপ পেরিয়ে আসা দল। ৮ মার্চ প্রথম রাউন্ডে জিম্বাবুয়ে-হংকংয়ের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে ৯ মার্চ; প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। ১১ মার্চ আয়ার?ল্যান্ড ও ১৩ মার্চ ওমানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
সুপার টেনে উঠতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৬ মার্চ, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে। ২৩ মার্চ একই মাঠে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। সুপার টেনের শেষ ম্যাচে কলকাতায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।
হাবিবুল বাশার বলছিলেন, তিনি চান প্রথম পর্বটাকে দল প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে দেখুক, ‘প্রথম পর্বে এই চার দলের ভেতর থেকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসতে পারবে কি না, এটা এখন আর আলোচ্য হওয়ার কথা নয়। আমি চাই ছেলেরা এই তিনটি ম্যাচকে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ হিসেবে দেখুক। আমরা টি-টোয়েন্টি কম খেলি। এটা আমাদের কাজে লাগবে।’ অন্যদিকে সুপার টেনের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক বলছিলেন, ‘ওটাই তো বিশ্বকাপ শুরু। বিশ্বকাপ খেলতে গেলে আপনাকে সেরাদের সাথেই খেলতে হবে।’ ঠিক একই কথাই বলছিলেন মেয়েদের অধিনায়ক জাহানারা, ‘বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি আমরা। এখানে সেরা দলগুলোর সাথেই খেলতে হবে। ফলে কে কম ভালো, কে বেশি ভালো এটা ভেবে লাভ নেই। টি-টোয়েন্টি খেলায় অনেক কিছুই হতে পারে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—পুরুষ
গ্রুপ
প্রথম পর্ব
গ্রুপ ‘এ’: বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, ওমান
গ্রুপ ‘বি’: জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, হংকং, আফগানিস্তান
দ্বিতীয় পর্ব
গ্রুপ-১: শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন
গ্রুপ-২: ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন
প্রথম পর্বে বাংলাদেশ
তারিখ প্রতিপক্ষ ভেন্যু
৯ মার্চ নেদারল্যান্ডস ধর্মশালা
১১ মার্চ আয়ারল্যান্ড ধর্মশালা
১৩ মার্চ ওমান ধর্মশালা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—নারী
গ্রুপ-এ: অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড
গ্রুপ-বি: ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ
প্রথম পর্বে বাংলাদেশ
তারিখ প্রতিপক্ষ ভেন্যু
১৫ মার্চ ভারত ব্যাঙ্গালুরু
১৭ মার্চ ইংল্যান্ড ব্যাঙ্গালুরু
২০ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজ চেন্নাই
২৪ মার্চ পাকিস্তান নতুন দিল্লী