পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিরাট সাফল্য অর্জিত হবে। দারিদ্র্যের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার যে কাজ আমরা শুরু করেছি তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখবে।
সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দোয়া ও সহযোগিতা করবেন যাতে করে সময়মতো সেতুর কাজ শেষ হয়। অনেক বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করেছি। শত বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে বাংলাদেশিরা আজ প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশিরাও পারে।
তিনি আরো বলেন, কারো কাছে ভিক্ষা করে নয়, হাত পেতে নয়, আমরাও পদ্মাসেতুর মতো একটা বিশাল সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করতে পারি। সেই যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ সেটা পারবে, কারণ তা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে মাবোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে শরীয়তপুরের জাজিরায় সেতুর নদী শাসনের কাজের উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে স্পিডবোট যোগে মাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে এসে পৌঁছান। পরে ১২ টা ৫৫ মিনিটে মূল সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।
ইতিমধ্যেই সেতুটির প্রায় ২৭ শতাংশ কাজ সমপন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মূলসেতু নির্মাণের ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, নদী শাসন কাজের ১৩ শতাংশ এবং সংযোগ সড়কের উভয়প্রান্তে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ হয়েগেছে। এর আগে পরীক্ষামূলক পাইলিং চলেও এবার শুরু হচ্ছে মূল পাইলিং।