নির্বাচনী প্রচারে বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা, অভিযোগ বিএনপির

পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মেয়রপ্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারে ক্ষমতাসীনরা বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।
 
রবিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় ফেনীর চৌমুহনী পৌরসভায় দলের মনোনীত মেয়রপ্রার্থী জহির উদ্দিন হারুনের উঠোন বৈঠকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ করে আক্রমণ চালায়’।
 
নাটোরের সিংড়ায় দলীয় প্রার্থী শামীম আল রাজীর প্রচারে বাধা এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, যশোর, ফরিদপুর, নোয়াখালী ও ফেনীতে ‘গণপ্রেপ্তারের মাধ্যমে’ নেতাকর্মীদের ঘরছাড়া করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ‘এমতাবস্থায় আসন্ন নির্বাচন কতোটা শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ হবে, ভোটাররা কতটুকু নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে- এটাই এখনে দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন’।
 
এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে একাধিকবার জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা। ‘পৌর নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে ‘সরকারের অঙ্গুলি হেলনে কাজ করছে না’- তা প্রমাণ করতে হবে’।
 
ভয়-ভীতি ও উতপীড়ন উপেক্ষা করে দেশবাসীকে পৌরভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘নিজের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সব চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে, সরকারের দমন-পীড়ন অগ্রাহ্য করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে’।
 
‘দেশে এখন শুধু আওয়ামীকরণ নয়, হসিনায়ন চলছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বহুত্ববাদী গণতন্ত্র এখন ঘরছাড়া। বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গায়েব করা হচ্ছে, পিটিয়ে মারা হয়েছে ত্রিশাল ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এনামুল হক চান মিয়াকে’।
 
আতঙ্কের পরিস্থিতি বজায় রেখে ক্ষমতাসীন দল কৌশলে একতরফা নির্বাচন করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আবু জাফর, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল লতিফ জনি ও শিরিন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।