শরণখোলায় প্রকৌশলীকে মারধর, গ্রেফতার ১

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাসানুজ্জামান পারভেজকে (৪৮) এলজিইডি’র এক প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। সোমবার সকালে বাগেরহাট আদালত এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। 
 
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
 
তবে গ্রেফতার হওয়া চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এলজিইডি’র প্রকৌশলীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা চেয়ে না পেয়ে বিলগুলো আটকে রাখার দাবি করে আসছেন।  
 
বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, 'গত ১০ ডিসেম্বর এলজিইডি’র শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে ঠিকাদারি কাজের বিল চেয়ে না পেয়ে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ তাকে মারধর করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এই ঘটনায় ১২ ডিসেম্বর ওই প্রকৌশলী শরণখোলা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সোমবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'
 
এলজিইডি’র শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম অভিযোগ করেন, '২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দুই লাখ টাকায় শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের একটি মাটির রাস্তার আড়াইশ মিটার ইটের সলিং বসাতে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজকে কাজ দেয়া হয়। তিনি এই কাজের মাত্র এক চতুর্থাংশ কাজ শেষ করে বেশ কিছুদিন ধরে পুরো বিলটি তুলে নিতে আমাকে চাপ দিতে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে তিনিসহ আরও ২-৩ অচেনা লোক নিয়ে আমার কার্যালয়ে ঢুকে আবারও বিলটি ছেড়ে দিতে চাপ দেন। কিন্তু আমি তাতে আপত্তি করায় তিনি ক্ষুব্দ হয়ে আমাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন। এসময়ে আমার অফিসের কর্তকর্তা-কর্মচারীরা দৌড়ে এসে আমাকে তার হাত থেকে রক্ষা করেন। এই ঘটনায় আমি তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করি।'