পৌর নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় সমন্বয় কমিটি হয়েছে। মনিটরিং কমিটি হয়েছে। জেলা ভিত্তিক কমিটি হয়েছে। প্রতিদিনই গুলশান অফিসে বৈঠক করছেন নেতারা। চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজে তদারকি করছেন সবকিছু। নির্দেশনা পাঠাচ্ছেন মাঠে। প্রার্থিদের অভয় দিচ্ছেন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করতে। তবে এতো কিছুর ভেতরও নির্বাচন নিয়ে গভীর সন্দেহ আর সংশয়ের আবর্তে আছেন দলের নেতারা। নির্বাচন সুষ্ঠ হবে এমন ভরসা ছেড়ে দিয়েছেন। একারণে আগাম সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন যে, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিস্থিতি হলে তারা ভোট থেকে বেরিয়ে আসবেন।
দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর নির্বাচনে সাড়ম্বরে থাকার বিএনপির নেপথ্য কারণ হলো-দলের ’ছত্রভঙ্গ’ নেতা-কর্মীদের সংঘবদ্ধ-চাঙ্গা করা, তৃণমূলে ধানের শীষের প্রচার এবং পরিস্থিতি কি - সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া।
খালেদা জিয়া বলেছেন, ধানের শীষের জনপ্রিয়তা এখন কোন পর্যায়ে সেটি বেরিয়ে আসবে নির্বাচনে। ‘ধানের শীষ’ মার্কা হিসেবে প্রায় আট বছর পর নির্বাচনে এসেছে। পৌরসভা নির্বাচনকে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবেও দেখছে বিএনপি। পৌর নির্বাচনে ‘ভোট জালিয়াতি, কারচুপি’ ও দলীয় প্রার্থীদের ‘বিজয় ঠেকানো’ হলে কর্মসূচি দেবে দলটি। এ কারণে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়া পৌর ভোটের শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীদের কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। মাটি কামড়ে এলাকায় পড়ে থাকাতে বলেছেন। তিনি বলেন, ভোট কারচুপি হলে, কেন্দ্র দখল করলে সারাদেশে তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ হবে। ‘প্রহসনের’ নির্বাচন হলেও বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। পরিস্থিতি বুঝে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক কৌশলের কারণে ভোট থেকে সরেও দাঁড়াতে পারে তার দল। সে কৌশল কী এবং কেন তা নেয়া হবে- সে কারণ অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন - পৌর নির্বাচনও সিটি নির্বাচনের মতো হবে। সরকার প্রশাসনের ক্ষমতাবলে নির্বাচন করবে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নেই। তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। সরকার যা চায় তাই হবে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও আসলে তারা কারচুপি করে জয়লাভ করবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তো ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তুা করতেই হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপারসন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি জোর করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জেতানো, কারচুপি, কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়ালিতসহ স্বচ্ছ নির্বাচন বানচাল করা হয়, তবে এটাকে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করবে বিএনপি। আর আমাদের আন্দোলন তো চলমান আছে। দেখা যাবে পৌর নির্বাচনের পর জানুয়ারিতেই কিছু ঘটবে।
তবে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিস্ট এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, কোনো কারণে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত হলে তা বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা আছে। কারণ তিন সিটিতে মাত্র তিনজন প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু ২১৮ টি পৌরসভায় প্রার্থীকে ভোটবর্জনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজি করানো সম্ভব না-ও হতে পারে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেরপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে পৌর নির্বাচন পরিচালনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির নেতারা বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করবেন।