স্বাধীনতার ৪৫ বছর

সার্টিফিকেট থাকলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বর্নু মিয়া

 
স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্নু মিয়া। ১৯৭১ সালের পর আজ ৪৪ বছর শেষ করে ৪৫ বছরে পদার্পন করলেও নিজের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি তিনি। রাজমিস্ত্রীর জোগালে কাজ করে চলে তার সংসার। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম তার জীবনকে করে তুলেছে বিকল।
 
১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার টানে বর্নু মিয়া পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধ করেন বীরত্বের সঙ্গে। ভারতের ২৪ পরগোনার চাপাবাড়িয়া মুক্তিভৌজ ক্যাম্পে ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলে তার প্রশিক্ষন। প্রশিক্ষন শেষে তিনি ভারতের বয়রা এলাকায় থেকে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে চাঁপাবাড়িয়া ক্যাম্প ইনচার্জ এম এ খালেক স্বাক্ষরিত সনদ পত্র দেন বর্নু মিয়াকে। তার আসল নাম রবিউল ইসলাম হলেও সকলের কাছে পরিচিত বর্নু মিয়া নামে। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর ১৭৭৩।
 
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বর্নু মিয়ার সর্বশেষ এলাকা ছিল যশোর আনসার ক্যাম্প। তার স্থানীয় কমান্ডার ছিলেন মেজর বজলুর রহমান এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মনজু। তার একান্ত সহ যোদ্ধারা ছিলেন এরফান, বাটুল, ইউছুপ, ছাত্তার ও মোশারেফ মোড়ল। আজ তাদের কেউ বেঁচে নেই। অসহায় মুক্তযোদ্ধা বর্নু মিয়ার বয়স আজ ৮৪'র কোঠায়। দিনে চোখে দেখতে পেলেও রাতে দেখেন না। শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার গাজিপুর গ্রামে তার বসবাস। একটি জীর্ন কুঠিরে পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
 
বর্নু মিয়া জানায়, আজ আমার দেখার কেই নেই। আমি এবং আমার স্ত্রী আজ নানা রোগে আক্রান্ত। একমাত্র পুত্র আদম আলী মটর শ্রমিক। সেও দুবার অপারেশন করে পড়ে আছে সংসারে। অর্ধহার অনাহারে দিন চলে। বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত বর্নু মিয়া অশ্রুশক্ত কন্ঠে জানালেন, আজ পর্যন্ত কোন সরকারি সাহায্য কিংবা সন্মানী ভাতা পাইনি। মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটসহ সকল কাগজ পত্র থাকলেও তার কথা কেই শুনেনি। স্থান হয়নি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম। থানা বা জেলা পর্যায়ে যখন যারা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেছে তারা করেছেন তার সঙ্গে প্রতারণা। কোন সহযোগীতার হাত বাড়ায়নি বর্নু মিয়ার দিকে। স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এ রকম অনেক প্রকৃত মুক্তিয়োদ্ধাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে তালিকা থেকে।
 
অসহায় সম্বলহীন বীরমুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম বর্নু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়সহ সরকারের কাছে তার নাম তালিকা ভুক্তিসহ  আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন।
 
বর্তমান সরকারের সার্কুলার অনুসারে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে তালিকা হচ্ছে। এ তালিকায় বর্নু মিয়ার নাম পাঠানো হয়েছে। একটি কমিটির মাধ্যমে যাচায় বাছাই করে বর্নু মিয়ার কাগজ পত্র সঠিক পাওয়া গেলে বর্নু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তভুক্তি হবে বলে জানালেন শার্শা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মনিরুজ্জামান মন্টু ( যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা)।
 
দেশের মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি সাহায্য কিংবা ভাতা পেয়ে থাকলেও স্বাধীনতার ৪৫ বছরে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও বর্নু মিয়া রয়েছেন বঞ্চিত। আর কতদিন পরে পাবেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা? অসহায় সম্বলহীন বীরমুক্তিযোদ্ধা বর্নু মিয়ার পরিবারের এমনটিই জিজ্ঞাসা সরকারের কাছে।