বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রওশন আরা নামে এক রোগীর দুটি কিডনী অপসারণের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদেরকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএসএমএমইউ’র ভিসি, অস্ত্রোপচারকারী দুই চিকিত্সকসহ আটজনকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া অস্ত্রোপচারকারী বিএসএমএমইউ’র ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল ও সহকারী অধ্যাপক ফারুক হোসাইনের চিকিত্সা সনদ বাতিল এবং পেশাগত অসদাচরণ ও চিকিত্সায় অবহেলার অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রওশন আরার কিডনি অপসারণ নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর বাম পাশের কিডনিতে ইনফেকশন ছিল। কিন্তু বিএসএমএমইউতে অপারেশনের পর চিকিত্সকরা তার দুটি কিডনিই কেটে ফেলেন। প্রথমে এ ঘটনা অস্বীকার করেন অস্ত্রোপচারকারী দুই চিকিত্সক। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর রওশন আরার পরিবারের সঙ্গে চুক্তি করে ওই চিকিত্সকরা। তারা রোগীর শরীরে কিডনি সংযোজন করে দেবেন বলে ওই চুক্তিনামা করেন। কিন্তু কিডনি সংযোজন না করায় পরে রওশন আরা মারা যান।
এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও নিহতের ছেলে রফিক শিকদার। রিটে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এম আসাদুজ্জামান। শুনানিতে তিনি বলেন, চিকিত্সকরা ভুল করতে পারেন। কিন্তু ভুল করার পর তা স্বীকার না করে রোগীকে হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে চরম পেশাগত অসদাচরণ করেছেন চিকিত্সকরা। এছাড়া কিডনি সংযোজন করে দেবেন বলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চুক্তি করে তা ভঙ্গ করেছেন। চিকিত্সা সংক্রান্ত এ অবহেলা মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত যদি সঠিকভাবে না এগোয় তাহলে দেশে দৈন্যদশা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।