জাতীয় দলের অপেক্ষা

গলা একটু বসে গেছে বলে মনে হলো। একটু কাশিও আছে। সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও শীত এখনও জেকে বসেনি। এখনও মৌসুম পরিবর্তনের ধাক্কা চলছে। সেই ধাক্কা তার গলাতেও হয়তো লেগেছে। অবশ্য দূর থেকে মনে হতে পারে, মনটাই খারাপ বলে এমন অবস্থা গলার। কথাটা খুব অস্বীকার করলেন না সৌম্য সরকার। একবাক্যে মেনে নিলেন, মনটা খারাপ।
 
সৌম্য সরকারের মন খারাপ হওয়ার কারণ আছে। জাতীয় দলের অন্যতম আকর্ষণীয় তারকা তিনি। প্রবল শক্তি আর শট আবিষ্কার করার ক্ষমতা দিয়ে এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছেন। ফলে বিপিএল তার আসর হতে যাচ্ছে, এমন একটা বিশ্বাস লোকদের তৈরি হয়েছিল। সেই বিশ্বাসটা ধাক্কা খেয়েছে। চারদিকে এখন বরং সৌম্যকে নিয়ে একটু গুঞ্জন।
 
সৌম্য অবশ্য এসব গুঞ্জন পাত্তা দেয়ার লোক নন। তিনি জানেন, খারাপ খেললে লোকে খারাপ বলবে। সে নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা এতটুকু নয়। তার খারাপ লাগাটা নিজের জন্যই, ‘আসলে লোকেরা তো বানিয়ে কিছু বলছে না। আমি রান করতে পারিনি, লোকে খারাপ বলবে। এ নিয়ে মন খারাপ না। মন খারাপ নিজের জন্যই। আমার নিজের তো একটা প্রত্যাশা ছিল। সামনে জাতীয় দলের অনেক খেলা। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজটায় ইনজুরির জন্য খেলতে পারিনি। বিপিএলে ভালো খেলে নিজেকে প্রস্তুত করার দরকার ছিল। সেটা পারলাম না।’
 
না পারাটা অবশ্য একটু রহস্যময় ব্যাপার।  সৌম্য একেবারেই পারেননি, তা কিন্তু নয়। তিনটে ইনিংসে ২০ রান পার করেছেন। একটা ইনিংসে ফিফটি করে নটআউট ছিলেন। চারটে ইনিংসে ১০ রান পার করেছেন। সুদর্শন কয়েকটা শট প্রতিদিনই ছিল। মানে শুরুটা পাচ্ছিলেন, কিন্তু ইনিংস বড় হচ্ছিল না। সৌম্য এই সমস্যা এর আগেও একবার সামলেছেন। জাতীয় দলে ঢোকার পরপরই এমন হচ্ছিল তার; শুরু হচ্ছে, বড় ইনিংস নয়।
 
স্বাভাবিকভাবেই সৌম্য এই ইনিংস বড় না হওয়া নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বলছেন, এটা নিয়ে ভাবছেন না। এমনকি উইকেট নিয়েও ভাবছেন না। বিপিএলের উইকেট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। বড় ব্যাটসম্যানরা অনেকেই ব্যর্থ হয়েছেন। চাইলে সৌম্য সেটাকেও ঢাল করতে পারতেন। কিন্তু ব্যাটের মতোই চওড়া এ ব্যাপারে সৌম্যর যুক্তি, ‘উইকেটের যুক্তি দেয়া আমার ঠিক হবে না। সবাইকে তো এই উইকেটেই খেলতে হয়েছে। উইকেট তো আমাদের হাতে থাকে না। সবসময় আমাদের মন মতো উইকেট হবেও না। এখানেই ভালো করতে হতো। রান করতে পারলে এই উইকেটই ভালো মনে হতো।’
 
তাহলে? তাহলে এখন কী হবে? দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে ত্রাস তৈরি করা সৌম্য কী আত্মবিশ্বাসটা হারিয়ে ফেলবেন!
 
এই প্রসঙ্গে জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি কয়েক দিন আগে বলছিলেন, জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে ফিরলে সবাই আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। সৌম্যও এখন সেই আশায় বুক বেঁধেছেন, আমি এখন চেষ্টা করছি, নিজের ভালো ব্যাপারগুলো ভাবতে। খারাপটা নিয়ে বেশি সময় কাটালে মন আরও খারাপ হবে। আর হ্যাঁ, ভাই যেটা বলেছেন, ওটা সত্যি। জাতীয় দলে ফিরলে সবাইকে কাছে পেলে নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাসটা ফিরে আসবে।’ শুধু সৌম্য নয়, পুরো বাংলাদেশই সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রইলো।