যেন সেই আসলাম

মুগ্ধ করলেন আসলাম। অসাধারণ ফুটবল উপহার দিলেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে আসলাম যেন তারুণ্যের ঝলক দেখালেন। শূন্যে ভেসে বাইসাইকেল ভলি দেখে কমলাপুর স্টেডিয়ামে আসা তরুণ দর্শকরা মুগ্ধ হলেন।
 
আসলামের হেড, আসলামের দুর্দান্ত থ্রু পাস নজর কাড়লো। আসলামের দারুণ একটা থ্রু পাস থেকে গোল করেছেন জাকির। এমন অনেক দর্শনীয় কারুকার্য দেখিয়ে আসলাম হয়ে উঠলেন নতুন তারকা। সাবেক ফুটবলারদের নস্টালজিক করে তুললো। নতুন টার্ফে বাফুফে একাদশ এবং সোনালী অতীত ক্লাবের ম্যাচটা ৩-৩ গোলে ড্র হয়। বাফুফে একাদশের আসলাম, জাকির, অপু এবং সোনালী অতীতের আলফাজ ২ এবং নকিব গোল করেন। দারুণ খেলেছেন স্ট্রাইকার মিলন, আলফাজ, নকিব। মিলনের অসাধারণ ট্যাব করা বলটাকে দক্ষতায় গোল করেছেন নকিব। আলফাজ দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে যেভাবে গোল করলেন, তাতে মনে হলো এখনও জাতীয় দলের স্ট্রাইকারদের চেয়েও এগিয়ে আছেন তিনি। কায়সার হামিদ জাকির, স্বপন, ছোট মুন্না, মানিক, রুপু, কানন, গাফফাররা মাতিয়ে রেখেছিলেন।
 
মাঠের এখনকার ফুটবলারদের খেলা দেখে যারা বিরক্ত তারা যেন কাল সোনালী ফুটবলে ফিরে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে আসলাম সবাইকে জাগিয়ে দিলেন তার শিল্পিত ফুটবল দিয়ে। খেলার পর মাঠে ঢুকে সংবাদ মাধ্যম ভিড় করলো আসলামকে ঘিরে। এখনও এই বয়সেও কিভাবে শূন্যে উঠে ভলি করলেন? আসলাম জবাব দিলেন, এটা এক দিনে হয়নি। অনেক দিনের সাধনার পর হয়েছে। অনেক কষ্ট করতে হয়েছে ক্যারিয়ারে। সালাহউদ্দিন ভাই, এনায়েত ভাই, চুন্নু ভাইদের দেখে বড় হয়েছি। তাদের অনুসরণ করতাম কিভাবে ছাড়িয়ে যাওয়া যায়। তিন বেলা অনুশীলন করেছি। 
 
এখনকার স্ট্রাইকাররা নান্দনিক ফুটবল দেখাতে পারে না, কেন? লিগের পাঁচবারের শীর্ষ গোলদাতা আসলাম বললেন, এখনকার ফুটবলারদের মধ্যে তাড়না নেই।’ নজর কেড়েছেন সাবেক তারকা ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ। মোহামেডানের এই ফুটবলার আবাহনীর আসলামকে সামাল দিয়েছেন বছরের পর বছর। কায়সার হামিদ কালও বললেন, আমাদের সময় আমি আসলাম ভাইকে নিয়ে টেনশনে থাকতাম, কিভাবে তাকে ট্যাকেল করবো। আসলাম ভাইয়ের মতো স্ট্রাইকার পাওয়া যাবে না।