জেলা পর্যায়ে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কাজ তদারক করতে সরকারের সচিব পর্যায়ের ৪৫ জন কর্মকর্তাকে ‘উপদেষ্টা’ (মেনটর) নিয়োগ আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। গতকালে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৪৫জন মেন্টরের নিয়োগ বাতিলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিকালে কমিশন জানিয়েছে, গত ১৩ নভেম্বর ‘উপদেষ্টা’ নিয়োগের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ইসির সচিবসহ ৩৮জন বর্তমান ও সাবেক সচিব এবং ৭জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। এ তালিকায় কয়েকজন সিনিয়র সচিবও আছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) দেওয়া চিঠিতে বিএনপি বলেছে, এ ধরনের দায়িত্ব প্রদান নির্বাচনকে চরমভাবে প্রভাবিত করবে এবং রিটার্নিং অফিসারদের উপর অযাচিত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করবে। এ আদেশ বাতিল করা না হলে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরেকটি চিঠিতে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি), জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে বদলির দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তবে এই দাবি নাকচ করে ইসি জানিয়েছে, ঢালাও রদবদল প্রস্তাব গ্রহণ করবে না ইসি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল দুপুরের দিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দলের পক্ষে পাঁচটি চিঠি ইসিতে গিয়ে দিয়ে আসেন। এর মধ্যে একটিতে ৪৫জন উপদেষ্টা নিয়োগ আদেশ বাতিল ও আরেকটিতে প্রশাসনে বদলির দাবি জানানো হয়। এরপরই বিকালে সিইসির সভাপতিত্বে কমিশনের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ৪৫ জন মেনটর নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্থগিত করেছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনে মেনটর নিয়োগ পূর্ব প্রচলিত। এর আগে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তফসিল ঘোষণার দিন গত ৮ নভেম্বর ৪৫জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে-পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের নগ্ন পদক্ষেপ এটি।
প্রশাসনে রদবদলের দাবি বিএনপির
বিএনপির চিঠিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলির কথা জানিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসি, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশ সদর দপ্তরের মাঠ প্রশাসনে বদলি করতে হবে। বদলির ক্ষেত্রে ব্যাচের সিনিয়রিটি ও মেধাক্রম অনুসরণ করতে হবে। সকল বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার করতে হবে।