আবাসন খাতের দূরাবস্থা কাটাতে বিনাশর্তে অপ্রর্দশিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা। শনিবার দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। আগামী ২৩ ডিসেম্বর বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া রিহ্যাব ফেয়ার-২০১৫ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রিহ্যাব। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবিউল হক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত কয়েক বছর ধরে নীতিনির্ধারণী কিছু সমস্যার কারণে আবাসন খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিগত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এ খাতকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে।
তাতে দেখা গেছে, ২০১৩ সালেই পাচার হয়েছে আনুমানিক ৭৬ হাজার কোটি টাকা। যা তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। সরকার বিগত বাজেটে অপ্রর্দশিত অর্থ আবাসন শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দিলেও আমরা বারবার জানিয়েছিলাম আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবিতে ইনডেমিনিটি রাখার কিন্তু তা রাখা হয়নি। ফলে এই অপ্রর্দশিত অর্থ ব্যাপকভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।
আবাসন খাতে বিনাশর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জনানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। আবাসন খাতে বর্তমানে বিনিয়োগ এখনও মাইনাস রয়েছে জানিয়ে রবিউল হক জানান, ২৩ ডিসেম্বর থেকে রিহ্যাব ফেয়ার চলবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় দুই ধরনের টিকিট রয়েছে। একটি সিঙ্গেল এন্ট্রি অপরটি মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা, মাল্টিপল ১০০ টাকা। মাল্টিপল টিকিটে মেলায় ৫ বার প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন আগ্রহীরা। টিকিটের র্যা ফেল ড্র-তে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় রিহ্যাব ফেয়ারের উদ্বোধন করবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এবার মেলায় প্রায় ১৫০টি স্টল থাকছে। মেলায় ২৫টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ লিয়াকত আলী ভূইয়া, সোহরাওয়ারর্দী ভূইয়া প্রমুখ।